Skip to content

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত অর্থ কি? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কি? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বৈশিষ্ট্য কি? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত নাজাত প্রাপ্ত দল কেন? প্রকৃত আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিচিতি।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত অর্থ কি? আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কি? আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা? আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বৈশিষ্ট্য কি? আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নাজাত প্রাপ্ত দল কেন? প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিচিতি।

বিষয়:
আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত অর্থ কি?
আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কি?
আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা?
আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বৈশিষ্ট্য কি?
আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত নাজাত প্রাপ্ত দল কেন?
প্রকৃত আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিচিতি।

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত অর্থ কি?

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত অর্থ সুন্নাতের অনুসারী দল। আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামটির মধ্যে ‘সুন্নাত’ শব্দ দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত ও পথ এবং ‘জামা’আত’ শব্দ দ্বারা বিশেষভাবে সাহাবায়ে কেরামের জামা’আত উদ্দেশ্য।

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কি? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বৈশিষ্ট্য কি? আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত নাজাত প্রাপ্ত দল কেন? প্রকৃত আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিচিতি।

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত সম্পর্কে এক হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

অতিশীঘ্র আমার উম্মত তেহাত্তর ফির্কায় (দলে) বিভক্ত হয়ে পড়বে, তন্মধ্যে মাত্র একটি দল হবে মুক্তিপ্রাপ্ত (অর্থাৎ, জান্নাতী) আর বাকী সবগুলো ফিরকা হবে জাহান্নামী।

জিজ্ঞাসা করা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই মুক্তি প্রাপ্ত দল কারা?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ তারা হলো আমি ও আমার সাহাবীগণ যে মত ও পথের উপর আছি তার অনুসারীগণ। (তিরমিযী, ২য় খন্ড)

এ হাদীছের মধ্যে যে মুক্তিপ্রাপ্ত বা জান্নাতী দল সম্পর্কে বলা হয়েছে, তাদেরকেই বলা হয় “আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত ৷”

মোটকথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের মত ও পথের অনুসারীদেরকেই বলা হয় আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত।

ইসলাম ধর্মে বিভিন্ন সময়ে যে সব সম্প্রদায় ও ফির্কার উদ্ভব হয়েছে, তন্মধ্যে সর্বযুগে এ দলটিই হলো সত্যাশ্রয়ী দল। সর্বযুগে ইসলামের মৌলিক আকাইদ বিষয়ে হকপন্থী গরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম যেভাবে কুরআন, হাদীছ ও সাহাবায়ে কেরামের মত ও পথের অনুসরণ করে আসছে, এ দলটি তারই অনুসরণ করে আসছে। এর বাইরে যারা গিয়েছে, তারা আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বহির্ভূত বিপথগামী ও বাতিলপন্থী সম্প্রদায়। এরূপ বহু বাতিল সম্প্রদায় কালের অতল গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যারা রয়েছে তারাও বিলীন হবে, হকপন্থী দল চিরকাল টিকে থাকবে।

আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে মনীষীগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকজনের উক্তি উল্লেখ করা হলো।

১. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) বলেন,وأهل السنة هم الذين اتبعوا سنة الرسول صلى الله عليه وسلم كل حين ومكان- ‘আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হ’ল তারা, যারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ও সময়ে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে অনুসরণ করে’।

(আল-আকাইদুল ইসলামিয়্যাহ (ঢাকা: ইসলামিয়া কুতুবখানা, তাবি), পৃঃ ২২৫।)

২. ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহঃ) বলেন,

وَأَهْلُ السُّنَّةِ الَّذِيْنَ نَذْكُرُهُمْ أَهْلَ الْحَقِّ وَمَنْ عَدَاهُمْ فَأَهْلُ الْبَاطِلِ فَإِنَّهُمُ الصَّحَابَةُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمْ وَكُلُّ مَنْ سَلَكَ نَهْجَهُمْ مِنْ خِيَارِ التَّابِعِيْنَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ ثُمَّ أَهْلُ الْحَدِيْثِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ جِيْلًا فَجِيْلًا إِلى يَوْمِنَا هَذَا وَمَنِ اقْتَدَى بِهِمْ مِنَ الْعَوَامِّ فِىْ شَرْقِ الْأَرْضِ وَغَرْبِهَا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ-

‘আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাআত- যাদেরকে আমরা হকপন্থী ও তাদের বিরোধীদের বাতিলপন্থী বলি, তারা হলোেন, (ক) ছাহাবায়ে কেরাম (খ) তাদের অনুসারী শ্রেষ্ঠ তাবেঈগণ (গ) আহলোেহাদীছগণ (ঘ) ফক্বীহদের মধ্যে যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন যুগে যুগে আজকের দিন পর্যন্ত (ঙ) এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ঐ সকল ‘আম জনসাধারণ, যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন’।

(আলী ইবনু হাযম আন্দালুসী, কিতাবুল ফিছাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল (বৈরূত: মাকতাবা খাইয়াত্ব, ১৩২১/১৯০৩ ইং) শাহরাস্তানীর ‘মিলাল’ সহ ২/১১৩।)

৩. ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,أهل السنة والجماعة القوم الصادقون هم الذين اتبعوا القرآن والسنة لرسول وسنة صحبه أجمعين- ‘আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হলো এমন হকপন্থী দল, যারা কুরআন, রাসূলের সুন্নাত এবং ছাহাবীগণের রীতি-নীতি অনুসরণ করে’। তিনি আরো বলেন,

وَمِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ مَذْهَبٌ قَدِيْمٌ مَعْرُوْفٌ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ اللهُ أَبَا حَنِيْفَةَ وَمَالِكًا وَالشَّافِعِىَّ وَأَحْمَدَ فَإِنَّهُ مَذْهَبُ الصَّحَابَةِ الَّذِيْنَ تَلَقَّوْهُ عَنْ نَبِيِّهِمْ-

‘আবু হানীফা, মালেক, শাফেঈ ও আহমাদের জন্মের বহু পূর্ব হতে আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি প্রাচীন মাযহাব সুপরিচিত ছিল। সেটি হলো ছাহাবায়ে কেরামের মাযহাব, যারা তাদের নবীর কাছ থেকে সরাসরি ইলম হাছিল করেছিলেন’।

(ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৩২২ হিঃ) ১/২৫৬ পৃঃ।)

৪. শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (রহঃ) বলেন, ‘আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত তারাই, যারা আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে ও তার উপর ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং অন্য কোন দিকে দৃষ্টি দেয় না। এ কারণেই তাদেরকে ‘আহলোে সুন্নাত’ রূপে নামকরণ করা হয়েছে। কেননা তারা সুন্নাহর ধারক ও বাহক। তাদেরকে ‘আহলোে জামাআতও বলা হয়। কারণ তারা সুন্নাহর উপর জামাআতবদ্ধ বা ঐক্যবদ্ধ। আপনি যদি বিদআতীদের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তাহ’লে দেখতে পাবেন যে, তারা আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলে বিভক্ত। তাদের এ অবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, তারা যে পরিমাণ বিদআত তৈরী করে সেই পরিমাণ সুন্নাত থেকে দূরে সরে গিয়েছে’।

(শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ফৎওয়া নং ৪।)

৫. শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) বলেন, أما الفرقة الناجية فهي أهل السنة والجماعة، وأهل السنة لا اسم لهم إلا اسم واحد وهو أصحاب الحديث. ‘অতঃপর ফিরক্বা নাজিয়া হ’ল আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। আর আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত। সেটি হলো ‘আহলোুল হাদীছ’।

(আব্দুল কাদের জিলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে গুনিয়াতুত ত্বালেবীন (মিসর: ১৩৪৬ হিঃ), ১/৯০ পৃঃ।)

৬. ইমাম ছাবূনী (রহঃ) বলেন, ولا يلحق أهل السنة إلا اسم واحد وهو أهل الحديث- ‘আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি নাম ব্যতীত অন্য কোন নাম নেই। আর তাহ’ল ‘আহলোেহাদীছ’।

ইমাম আবু ওছমান আব্দুর রহমান বিন ইসমাঈল ছাবূনী, আক্বীদাতুস সালাফ তাহক্বীক্ব: বদর আল-বদর (কুয়েত: দারুস সালাফিইয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪০৪ হিঃ/১৯৮৪ ইং), পৃঃ ১০৬।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হ’ল যে, আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অপর নাম ‘আহলোেহাদীছ’। মোদ্দাকথা আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হচ্ছেন ছাহাবায়ে কেরাম, তাঁদের উত্তম অনুসারী এবং প্রত্যেক ঐসকল মুসলিম, যারা তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতি ও পথ-পন্থার অনুগামী এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের রীতি-নীতির ধারক। আর মূলতঃ তারাই আহলোেহাদীছ।

পোষ্টটি লিখতে নিম্নক্তো বই/লেখকের লিখনী থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
আহকামে জিন্দেগী (মাকতাবাতুল আবরার প্রকাশনী)
মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন
শায়খুল হাদীছ, জামেয়া ইসলামিয়া আরার্বিয়া, তাঁতী বাজার, ঢাকা-১১০০
মুহাদ্দিছ, জামিয়া ইসলমিয়া দারুল উূলুম মাদানিয়া, ৩১২, দক্ষীণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!