Skip to content

মাজার/মাযার সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? মাযার সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা সমূহ ও কর্ম সমূহ

মাজার/মাযার সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? মাযার সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা সমূহ ও কর্ম সমূহ

মাযার সম্বন্ধে ভ্রান্ত/ভুল/মিথ্যা ধারণা সমূহ

১. মাযারে গেলে বিপদ-আপদ দূর হয়।

২. মাযারে গেলে আয়-উন্নতিতে বরকত হয়।

৩. মাযারে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য বেশী হয়।

৪. মাযারে সন্তান চাইলে সন্তান লাভ হয়।

৫. মাযারে গেলে মকসূদ হাসেল হয়।

৬. মাযারে মান্নত মানলে উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

৭. মাযারে টাকা-পয়সা নযর-নিয়ায় দিলে ফায়দা হয়।

৮. মাযারে ফুল, মোমবাতি, আগরবাতি ইত্যাদি দেয়াকে ছওয়াবের কাজ মনে করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন: মাজার অর্থ কি? মাজার এর অর্থ? মাজার বাংলা অর্থ? মাজার নামের অর্থ? মাজার শব্দের অর্থ কি? মাজার এর মানে কি? মাজার এর অর্থ কি?

উত্তর: মাজার একটি আরবী শব্দ, যা এখন শুধু বাংলাতেই ব্যবহৃত হয়। শব্দটি ফারসী দরগাহ শব্দের প্রতিশব্দ। এর ধাতুগত অর্থ ‘যিয়ারতের স্থান’। মাজার বলতে সাধারণত আওলিয়া-দরবেশগণের সমাধিস্থলকে বোঝায়।

এককথায়, “মাযার” শব্দের অর্থ যিয়ারতের স্থান। সাধারণ ভাবে বুযূৰ্গদের কবর যেখানে যিয়ারত করা হয়, তাকে মাযার বলা হয়।

মাজারকে রওযা বা কবরও বলা হয়।

প্রশ্ন: মাজারে মানত করা কি জায়েজ?

উত্তর: না, মাজারে মানত করা জায়েজ নয়। এটা শির্ক।

প্রশ্ন: মাজারে সেজদা করা যাবে কি?

উত্তর: না। মাজারে সেজদা করা যাবে না, মাজার ওয়ালা কে প্রভু মেনে সিজদা করলে শিরক আর অলি হিসেবে সম্মান করে সিজদা করলে হারাম। সিজদা করা, কবরবাসীর কাছে কোনো সাহায্য চাওয়া ও যাবতীয় কুসংস্কারের উদ্দেশ্যে কবর, মাজার ইত্যাদিতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কবর পাকা করা ও তার ওপর কোনো কিছু নির্মাণ করাও নিষিদ্ধ। (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)

প্রশ্ন: মাজারের গিলাফ লাগানো কি? মাজার ইসলামের অংশ কি? ইসলামে মাজার এর কোন গুরুত্ব আছে কি? ইসলামিক মাজার বানোর অনুমতি আছে কি?

উত্তর: হারাম। প্রচলিত মাজার বিষয়টাই সম্পূর্ণ হারাম। কবরে শুধু জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কবরকে মাজার বানানো তো দূরের কথা আল্লাহর নবী (সা.) কবরকে পাকা ও উঁচু করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর নবী সমস্ত উঁচু কবরকে সমান করে দিতে বলেছেন।

মুহাম্মদ ইবন কাছীর (র.) আবূ হায়্যাজ আসদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রা) আমাকে পাঠান এবং বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন একটি কাজের জন্য প্রেরণ করবো যে কাজের জন্য আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা) পাঠান ? (তা হলোোঃ) “আমি যেন কোন উঁচু কবর সমান করা ছাড়া এবং কোন মূর্তি ভেঙ্গে যমীনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া ছাড়া, নিবৃত্ত না হই।”

সুনান আবু দাউদ
কিতাবুল জানাযা ২১,হাদিস ৩২১৮
সনদঃ সহিহ্‌ _আল আলবানি (রহঃ)

আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম (র)…..জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-এর ওফাতের পাঁচদিন আগে তাকে বলতে শুনেছি, “সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক্কারদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান! তোমরাও কবরকে মসজিদ বানিও না। আমি তোমাদের তা থেকে নিষেধ করছি।”

সহিহ মুসলিম
মসজিদ ও স্বলাতের স্থান
অধ্যায় ৪, হাদিস ১০৮৩

আল্লাহ্‌ সব বিষয়ে ভালো জানেন। আল্লাহ্‌ আমাদের রাসুল(সঃ) এর নির্দেশের উপর চলার তৌফিক দিন এবং তার নির্দেশ পুনরায় প্রতিষ্টিত করার শক্তি দান করুক -আমীন।

পোষ্টটি লিখতে নিম্নক্তো বই/লেখকের লিখনী থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
আহকামে জিন্দেগী (মাকতাবাতুল আবরার প্রকাশনী)
মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন
শায়খুল হাদীছ, জামেয়া ইসলামিয়া আরার্বিয়া, তাঁতী বাজার, ঢাকা-১১০০
মুহাদ্দিছ, জামিয়া ইসলমিয়া দারুল উূলুম মাদানিয়া, ৩১২, দক্ষীণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!