Skip to content

জামাতে নামাজ পড়া হুকুম, গুরুত্ব, ফজিলত। জামাতে নামাজে না পড়ার ওজর সমূহ। কাতারের মাসায়েল। লোকমা দেয়া ও নেয়ার মাসায়েল।

জামাতে নামাজ পড়ার হুকুম, গুরুত্ব, ফজিলত। জামাতে নামাজে না পড়ার ওজর সমূহ। কাতারের মাসায়েল। লোকমা দেয়া ও নেয়ার মাসায়েল।

আলেচনার বিষয়ঃ
১. জামাতে নামাজের হুকুম কি? জামাতে নামাজ পড়া কি ফরয? জামাতে নামাজে না পড়ার শাস্তি কি? জামাতে নামাজ পড়ার
২. গুরুত্ব, জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত
৩. একাকী ফরয নামায শুরু করার পর ঐ নামাযের জামাত শুরু হলোে করণীয় কি?
৪. জামাতে নামাজ না পড়ার ওজরসমূহ যেসব ওজর থাকলে জামাত তরক করা যায় সেগুলো নিম্নরূপঃ
৫. জামাতে নামাজ এর কাতারের মাসায়েল
৬. জামাতে নামাজ এর লোকমা দেয়া ও নেয়ার মাসায়েল

জামাতে নামাজের হুকুম কি? জামাতে নামাজ পড়া কি ফরয? জামাতে নামাজে না পড়ার শাস্তি কি? জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব, জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

  • পাঁচ ওয়াক্তের ফরয নামায জামা’আতের সাথে পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা। অনেক মুহাক্কিক আলেমের মতে ওয়াজিব। বিনা ওজরে জামা’আত তরক করা গোনাহ। যে বিনা ওজরে সর্বদা জামা’আত তরক করে সে ফাসেক।
  • পাঁচ ওয়াক্তের ফরয নামাযে ইমাম ব্যতীত একজন মুক্তাদী হলোেও জামাআত হয়ে যায়। চাই সে একজন সমঝদার নাবালেগ হোক বা মেয়েলোক হোক।
  • স্ত্রীলোক, নাবালেগ, ক্রীতদাস এবং যাদের জামা’আত তরক করার ওজর রয়েছে তাদের উপর জামা’আত ওয়াজিব নয়।
  • জামা’আত সহীহ হওয়ার জন্য ইমামকে মুসলমান হতে হবে, ইমামকে বালেগ ও বোধগম্য হতে হবে। মুক্তাদীকে এক্তেদার নিয়ত করতে হবে এবং ইমাম ও মুক্তাদীর স্থান একই হতে হবে অর্থাৎ, ইমাম ও মুক্তাদীর মাঝে দুই কাতার পরিমাণ ব্যবধান বা গাড়ী চলার মত রাস্তার ব্যবধান থাকতে পারবে না বা একজন সওয়ারীতে অন্যজন মাটিতে থাকতে পারবে না। কিংবা ইমাম মুক্তাদী ভিন্ন ভিন্ন যানবাহনে থাকলেও হবে না।
  • একাকী নামায পড়ার চেয়ে জামা’আতের সাথে নামায পড়লে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশী ছওয়াব পাওয়া যায়।
  • মহিলাদের জন্য মসজিদ বা ঈদগাহে জামা’আতে নামায পড়তে যাওয়া মাকরূহ ও নিষিদ্ধ। সাহাবাদের যুগ থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা চলে আসছে।
  • যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন যাবত তাকবীরে উলার (প্রথম তাকবীরের) সাথে জামা’আতে শরীক হয়ে নামায পড়বে, তার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার এবং মুনাফেকী থেকে মুক্ত থাকার পরওয়ানা লিখে দেয়া হবে। (তিরমিযী) ইমামের কিরাত শুরু করার আগ পর্যন্ত জামা’আতে শরীক হলোেও তাকবীরে উলা পেয়েছে ধরা হবে।
  • জামা’আত পাওয়ার আশায় মসজিদে এসে যদি দেখে জামা’আত হয়ে গিয়েছে তবুও জামা’আতের ছওয়াব পাওয়া যাবে।
  • মসজিদে জামা’আত হয়ে গেলে মসজিদের বাইরে জামা’আত সহকারে নামায পড়তে পারলে উত্তম। এমনকি ঘরে এসে যারা নামায পড়েনি তাদেরকে নিয়ে জামাআত করবে। যদি শুধু স্ত্রীকে নিয়েও জামা’আত করা যায় তবুও উত্তম। তবে স্ত্রী একা মুক্তাদী হলোে তাকে পিছনে দাঁড়িয়ে দিতে হবে। আর কোনভাবে অন্যত্র জামা’আত করতে না পারলে ফরয নামায মসজিদেই পড়া উত্তম।
  • হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে মসজিদে ফরয নামাযের জন্য ছানী জামা’আত (অর্থাৎ, মসজিদে একবার জামা’আত হয়ে গেলে আবার দ্বিতীয়বার ঐ মসজিদে ঐ নামাযের জন্য জামা’আত) মাকরূহ তাহরীমী। তবে তিন অবস্থায় ছানী জামা’আত বরং আরও অধিক জামা’আত করা মাকরূহ নয়।

(১) যদি মসজিদ এমন হয় যার ইমাম মুআযিন নির্দিষ্ট নেই। এরূপ অবস্থায় ছানী জাম‘আত করা যায়।

(২) যদি প্রকাশ্যে আযান ইকামত ছাড়া প্রথম জামা’আত হয়ে থাকে।

(৩) যদি মসজিদের এলাকার নির্দিষ্ট মুসল্লী ও কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্যরা প্রথম জামা’আত করে থাকে।

হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ (রহঃ)-এর মতে এই তিন অবস্থা ছাড়াও সর্বাবস্থায় ছানী জামা’আত করা যায়-মাকরূহ হবে না, যদি প্রথম জাম’আত যে স্থানে হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করে (ঐ মসজিদেই) অন্য স্থানে ছানী (দ্বিতীয়) জামা’আত করা হয়।

অনেকে হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ (রহঃ)-এর মতানুসারে ছানী জামা’আত করে থাকেন, তবে ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মত দলীলের দিক দিয়ে অধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণে মুহাক্কিক আলেমগণ তাঁর মতানুসারেই ফতওয়া দিয়ে থাকেন।

  • একাকী ফরয নামায পড়ার পর যদি মসজিদে জামা’আত হতে দেখা যায় তাহলোে তাতে শরীক হওয়া যায়, যদি সেটা জোহর বা ঈশার জামা’আত হয়। এরূপ অবস্থায় জামা’আতের সাথে দ্বিতীয়বার যেটা পড়া হবে তা নফল বলে গণ্য হবে।
  • যদি আসর বা ইশার চার রাকআত সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা শুরু করার পর জামা’আত শুরু হয়ে যায়, তাহলোে দুই রাকআত পূর্ণ করার পূর্বে হলোে দুই রাকআত পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়ে জামা’আতে শরীক হয়ে যাবে। পরে আর এই চার রাকআত বা অবিশিষ্ট দুই রাকআত পড়তে হবে না। আর তৃতীয় রাকআত বা চতুর্থ রাকআতে থাকা অবস্থায় জামাআত শুরু হলোে চার রাকআত পূর্ণ করে তারপর জামা’আতে শরীক হবে।

একাকী ফরয নামায শুরু করার পর ঐ নামাযের জামাত শুরু হলোে করণীয় কি?

(এক) যদি দুই বা তিন রাকআত ওয়ালা নামায হয় এবং যদি এখনও সে দ্বিতীয় রাকআতের সাজদা না করে থাকে, তাহলোে তৎক্ষণাৎ (ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে ঐ নামায শেষ করে) জামা’আতে শরীক হয়ে যাবে।

(দুই) আর যদি দুই বা তিন রাকআত ওয়ালা নামাযের দ্বিতীয় রাকআতের সাজদা করে থাকে, তাহলোে ঐ নামাযই পূর্ণ করতে হবে। (জামা’আতে শরীক হবে না।)

(তিন) যদি চার রাকআত ওয়ালা নামায হয় এবং প্রথম রাকআতের সাজদা না করে থাকে তাহলোে তৎক্ষণাৎ (ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে ঐ নামায শেষ করে) জামা’আতে শরীক হয়ে যাবে।

(চার) কিন্তু যদি এক সাজদাও করে থাকে তবে দুই রাকআত পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়ে জামা’আতে শরীক হবে। তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত এই হুকুম।

(পাঁচ) যদি তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে এবং এখনও তৃতীয় রাকআতের সাজদা না করে থাকে তবে ঐ দণ্ডায়মান অবস্থায়ই সালাম ফিরিয়ে (ঐ নামায শেষ করে) জামাআতে শরীক হয়ে যাবে।

(ছয়) যদি তৃতীয় রাকআতের সাজদা করে থাকে বা আরও পড়ে থাকে তাহলোে ঐ নামায পূর্ণ করে নিবে। (বেহেশতী জেওর)

জামাতে নামাজ না পড়ার ওজরসমূহ যেসব ওজর থাকলে জামাত তরক করা যায় সেগুলো নিম্নরূপঃ

১। ছতর ঢাকা পরিমাণ কাপড় না থাকলে।

২। মুষলধারে বৃষ্টি বা প্রচণ্ড ঝড় তুফান হতে থাকলে এবং ছাতা না থাকলে ও কাপড়-চোপড় ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে। তবে এরূপ অবস্থায়ও কোনভাবে হাজির হতে পারলে উত্তম।

৩। মসজিদে যাওয়ার পথে ভীষণ কাদা থাকলে এবং চলা কষ্টকর ও জুতা/স্যাণ্ডেল নোংরা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে। তবে এরূপ হওয়া সত্ত্বেও হাজির হতে পারলে উত্তম।

৪। প্রচণ্ড শীতের কারণে মসজিদে গেলে রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা বা রোগ বৃদ্ধির আশংকা থাকলে।

৫। মসজিদে গেলে ঘরের মাল-সামান চুরি হওয়ার আশংকা থাকলে।

৬। মসজিদে গেলে শত্রুর সন্মুখীন হওয়ার আশংকা থাকলে।

৭। মসজিদে গেলে ঋণ দাতার সাক্ষাৎ ও তার মাধ্যমে উৎপীড়িত হওয়ার আশংকা থাকলে। অবশ্য তার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য থাকলে এটা ওজর বলে গণ্য হবে না।

৮। রাতের বেলায় নামাযের সময় প্রবল ঝড় তুফান আসলে

৯। অন্ধকার রাতে পথ দেখা না গেলে এবং আলোর ব্যবস্থা না থাকলে।

১০। রোগীর সেবায় রত ব্যক্তি জামা’আতে গেলে যদি রোগী কষ্ট পায় বা চিন্তাযুক্ত হয়, তাহলোে জামা’আত তরক করা জায়েয।

১১। খাবার প্রস্তুত হয়েছে বা এখনই হচ্ছে আবার ক্ষুধাও এত বেশী যে, খাবার না খেয়ে নামাযে দাঁড়ালে নামাযে মন বসবেনা খাবারের দিকে মন থাকবে-এমন হলোে।

১২। নামাযের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার মত পেশাব পায়খানার প্রচণ্ড বেগ থাকলে।

১৩। রোগের কারণে চলা ফেরা করতে না পারলে।

১৪। অধিক লেংড়া বা পা কাটা বা অন্ধ হলোে। অবশ্য অন্ধ ব্যক্তি অনায়াসে মসজিদে পৌঁছতে সক্ষম হলোে তার জন্য জামা’আত ছেড়ে দেয়া উচিত নয়।

১৫। সফরে রওয়ানা হওয়ার সময় জামা’আতে গেলে কাফেলার সঙ্গীদের চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বা ভ্রমণের যানবাহন সম্পূর্ণ তৈরী এবং জামা’আতে গেলে যানবাহন চলে যাওয়ার ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে।

জামাতে নামাজ এর কাতারের মাসায়েল

  • মুক্তাদী একজন হলোে ইমামের ডান পার্শ্বে ইমামের সমান বা কিঞ্চিত পিছনে দাঁড়াবে। ইমামের বাম দিকে বা সোজা পিছনে দাঁড়ানো মাকরূহ।
  • মুক্তাদী দুইজন বা বেশী হলোে ইমামের পিছনে কাতার বেধে দাঁড়াবে। যদি দুইজন হওয়া অবস্থায় ইমামের পাশে (একজন ডানে পাশে একজন বাম পাশে) দাঁড়ায়, তাহলোে মাকরূহ তানযীহী হবে আর দুইজনের বেশী হওয়া অবস্থায় ইমামের পাশে দাঁড়ালে মাকরূহ তাহরীমী হবে।
  • দুইয়ের অধিক মুক্তাদী হলোে ইমামের জন্য আগে দাঁড়ানো ওয়াজিব। অতএব একজন মুক্তাদীকে ডানপার্শ্বে নিয়ে নামায শুরু করার পর যদি আরও মুসল্লী আসে তাহলোে প্রথম মোক্তাদীর পিছনে সরে আসা উচিত, যাতে আগন্তুকদের নিয়ে পিছনে কাতার বাধতে পারে। যদি সে পিছনে না সরে তাহলোেও আগন্তুক মুসল্লীগণ আস্তে আস্তে হাত দিয়ে তাকে পিছনের দিকে টেনে আনবে। এরূপ না করে আগন্তুক মুসল্লীও যদি ইমামের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে যায় তাহলোে ইমাম সামনে জায়গা থাকলে আগে বেড়ে যাবে, তবে সাজদার জায়গা থেকে আগে বাড়বে না। অনুরূপভাবে যদি পিছনে জায়গা না থাকে তাহলোে মুক্তাদীর অপেক্ষা না করে ইমামেরই আগে বেড়ে যাওয়া উচিত।
  • মুক্তাদী যদি একজন স্ত্রীলোক বা একটি নাবালেগা বালিকা হয় তাহলোেও তাকে ইমামের পিছনে দাঁড়াতে হবে-ইমামের পার্শ্বে নয়।
  • মুক্তাদীদের মধ্যে বালেগ পুরুষ, নাবালেগ, বালেগা নারী- এরূপ বিভিন্ন প্রকারের লোক থাকলে নিম্নোক্ত নিয়ম ও তারতীব অনুসারে কাতার বাধতে হবে। প্রথম পুরুষগণের, তারপর নাবালেগদের, তারপর নাবালেগাদের তারপর বালেগা নারীদের।
  • একজন মাত্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে থাকলে তাকে বয়স্কদের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নিবে এবং একাধিক হলোে বড়দের পিছনে কাতারের ব্যবস্থা করবে তারপর নারীদের।
  • কোন কাতার পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর একজন মাত্র মুসল্লী আসলে তার জন্য একা একা ভিন্ন কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহ। সে অন্য কারও আগমনের অপেক্ষা করবে। অন্য কেউ না আসলে ইমামের সোজা পিছনের লোকটিকে টেনে নিয়ে কাতার বেধে দাঁড়াবে। তবে পিছনে টেনে আনলে মাসআলা না জানার কারণে উক্ত লোকটির যদি এমন কোন কাজ করার সম্ভাবনা থাকে যাতে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে বা সে খারাব মনে করে, তাহলোে টেনে আনবে না, একা একাই দাঁড়িয়ে যাবে।
  • কাতার সোজা করে এবং মিলে মিলে দাঁড়ানো জরূরী (গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত)। এর জন্য মুসল্লীদের আদেশ ও হেদায়েত করা ইমামের দায়িত্ব এবং মুসল্লীদের তা মান্য করা কর্তব্য। তবে খুব বেশী চাপাচাপি করে কাউকে কষ্ট দেয়াও মোনাছেব নয়।
  • আগের কাতারে জায়গা থাকতে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহ।
  • কাতার বাধার নিয়ম হলো প্রথমে একজন ঠিক ইমামের পিছনে দাঁড়াবে, তারপর একজন ডানে একজন বামে- এরূপে ক্রমাগত কাতার পূর্ণ হবে।
  • কাতার সোজা করার নিয়ম হলো কাঁধে কাঁধে এবং পায়ের টাখনু গিরাকে বরাবর করে দাঁড়ানো।

জামাতে নামাজ এর লোকমা দেয়া ও নেয়ার মাসায়েল

(ভুল সংশোধন করে দেয়াকে লোকমা দেয়া বলা হয়)

  • কিরাত বা উঠা বসায় ইমামের ভুল হলোে মুক্তাদীগণ লোকমা দিতে পারেন, চাই ফরয নামায হোক বা তারাবীহ ইত্যাদি যে কোন নামায হোক।
  • ইমাম যদি এমন কোন লোকের লোকমা গ্রহণ করেন যে তার এক্তেদা করেনি, তাহলোে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। একমাত্র মুক্তাদীর লোকমাই গ্রহণ করা যায়।
  • পেরেশান করার জন্য ভুল লোকমা দেয়া অন্যায়। যেমন তারাবীহতে এক হাফেজকে পেরেশান করার জন্য অন্য হাফেজ কোথাও কোথাও এরূপ করে থাকে বলে শোনা যায়।
  • ফরয পরিমাণ কিরাত পড়ার পর কিরাতে বেঁধে গেলে ইমামের রুকুতে চলে যাওয়া উচিত। (এরূপ অবস্থায় এদিক সেদিক থেকে পড়ে বা চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থেকে) মুক্তাদীকে লোকমা দেয়ার জন্য বাধ্য করা মাকরূহ (তানযীহী)। ফরয পরিমাণ কিরাত হয়ে যাওয়ার পর লোকমা দেয়াও অনুরূপ মাকরূহ। আর ফরয পরিমাণ কিরাতের পূর্বে বেঁধে গেলে অন্য স্থান থেকে কিরাত পড়বে।
  • ইমাম উঠার সময় বসে পড়লে বা বসার সময় উঠে গেলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে লোকমা দেয়া নিয়ম। অনেকে এসব ক্ষেত্রে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দিয়ে থাকেন, তাহলোে তাতেও নামাযের কোন ক্ষতি হয় না।
  • ইমাম চুপে চুপে কিরাত পড়ার নামাযে যদি জোরে কিরাত শুরু করেন বা জোরে কিরাত পড়ার নামাযে চুপে চুপে পড়তে থাকেন, তাহলোেও ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে লোকমা দিতে হয়।
সূত্র: আহকামে যিন্দেগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!