Skip to content

দোয়া/মুনাজাতের নিয়ম, আদব ও আমল সমূহ। দোয়া সম্পর্কে আরও বিশেষ কয়েকটি কথা। দোয়া কবুল হওয়ার সময় বা বিশেষ মুহূর্ত। কুরআনে বর্ণিত বিশেষ 20 টি দোয়া/মুনাজাত। হাদীসে বর্ণিত বিশেষ 10 টি দোয়া/মুনাজাত

ইশার সময়/ওয়াক্ত কখন শুরু হয়?

আলোচনার বিষয়ঃ
(ক) দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সর্বক্ষণ যা যা করণীয়।
(খ) দোয়ার সময় বসার আদব।
(গ) দোয়ার সময় হাত উঠানোর নিয়মাবলী।
(ঘ) দোয়া শুরু এবং শেষ করার বাক্যসমূহ।
(ঙ) দোয়ার সময় মনের অবস্থা যে রকম রাখতে হয়।
(চ) চাওয়ার আদবসমূহ।
(ছ) দোয়া বিষয়বস্তু বিষয়ক আদবসমূহ।
(জ) দোয়ার ভাষা বিষয়ক আদবসমূহ।
দোয়া সম্পর্কে আরও বিশেষ কয়েকটি কথা।
দোয়া কবুল হওয়ার সময় বা বিশেষ কয়েকটি মুহূর্ত।
কুরআনে বর্ণিত বিশেষ 20 টি দোয়া/মুনাজাত।
হাদীসে বর্ণিত বিশেষ 10 টি দোয়া/মুনাজাত।

(ক) দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সর্বক্ষণ যা যা করণীয়:

১. খাদ্য, পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আয়-উপার্জন হালাল হওয়া।

২. মাতা-পিতার নাফরমানী থেকে বিরত থাকা।

৩. আ বিল’ মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করা তথা ভাল কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজ থেকে বারণ করা।

৪. আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা।

৫. কোন মুসলমানের সাথে অন্যায়ভাবে তিন দিনের বেশী কথা বন্ধ না রাখা।

৬. গীবত না করা। গীবতকারী ব্যক্তির দোয়া কবূল হয় না।

৭. হাছাদ বা হিংসা না করা। হিংসুকের দোয়া কবূল হয় না।

৮. বখীলী বা কৃপণতা না করা। কৃপণ ব্যক্তির দুত্যা কবূল হয় না।

৯. দোয়া কবূল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করা।

১০.হৃদয় মরে গেলে দোয়া কবূল হয় না। উল্লেখ্য-যিকির না করলে, বেশী

হাসলে, বেশী কথা বললে হৃদয় মরে যায়।

(খ) দোয়ার সময় বসার আদবঃ

১. কেবলামুখী হয়ে বসা।

২. হাঁটু গেড়ে বসা।

৩. আদব, তাওয়ায়ু ও বিনয়ের সাথে বসা।

৪. পাক-সাফ হয়ে বসা।

৫. উযূ সহকারে বসা।

৬. দোয়ার সময় আসমানের দিকে নজর না উঠানো I

(গ) দোয়ার সময় হাত উঠানোর নিয়মাবলীঃ

১. সীনা বা কাঁধ বরাবর হাত উঠানো।

২. উভয় হাতের তালু আসমানের দিকে রাখা মোস্তাহাব।

৩. উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ কেবলামুখী রাখা মোস্তাহাব।

৪. উভয় হাতের মাঝখানে সামান্য পরিমাণ ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৫. উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে নয় বরং সামান্য ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৬. দোয়া শেষ পূর্বক বরকতের জন্য মুখে হাত বুলিয়ে নেয়া।

(ঘ) দোয়া শুরু এবং শেষ করার বাক্যসমূহঃ

১. দোয়ার শুরু এবং শেষে আল্লাহর হাম্দ ও ছানা (প্রশংসা) বয়ান করা।

২. দোয়ার শুরু এবং শেষে দুরূদ ও সালাম পড়া।

বিঃ দ্রঃ এ দুটি আমলের জন্য নিম্নোক্ত বাক্য দিয়ে দোয়া শুরু করা যায়:

الحمد لله رب العلمين والصلاة والسلام على المرسلين

এবং শেষে নিম্নোক্ত বাক্য বলা যায়-

سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العلمين

৩. ‘আমীন’ বলে দোয়া শেষ করা।

(ঙ) দোয়ার সময় মনের অবস্থা যে রকম রাখতে হয়ঃ

১. এখলাসের সাথে খালেস মনে দোয়া করা অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারে না- এই মনোভাব বদ্ধমূল রাখা।

২. দ্ব্যর্থহীন মনোভাব নিয়ে দোয়া করা।

৩. আগ্রহ এবং অনুপ্রাণিত মনে দোয়া করা।

৪. যথাসম্ভব মনোযোগ সহকারে দোয়া করা।

৫. নাছোড় মনোভাব নিয়ে দোয়া করা।

৬. দোয়া কবূল হওয়ার দৃঢ় আশা রাখা।

(চ) চাওয়ার আদবসমূহঃ

১. আল্লাহ্ আছমায়ে হুছনা (উত্তম নাম) ও মহান গুণাবলী উল্লেখ পূর্বক চাইতে হয়।

২. প্রথমে নিজের জন্য, তারপর মাতা-পিতা ও অন্যান্য মুসলমান ভাইদের জন্য চাওয়া। ইমাম হলোে জামাআতের সকলের জন্য চাইবেন।

৩. বারবার চাওয়া; অন্ততঃ তিনবার। একই মজলিসে তিনবার বা তিন মজলিসে তিনবার। তবে তিনবার চাওয়ার এই নিয়ম একাকী দোয়া করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৪. নিম্নস্বরে চাওয়া। তবে মজলিসের লোকদেরকে শোনানোর প্রয়োজনে জোর আওয়াজে দোয়া করা যায়। কিন্তু যদি কোন নামাযী ব্যক্তির নামাযে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলোে তখন জোর আওয়াজে দোয়া করা নিষিদ্ধ।

৫. কোন নেক কাজের উল্লেখ পূর্বক দোয়া কবূল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন প্রার্থনা করা।

৬. আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং অন্যান্য নেককার ও বুযুর্গদের ওছীলায় দোয়া কবুল হওয়ার প্রার্থনা করা।

(ছ) দোয়া বিষয়বস্তু বিষয়ক আদবসমূহঃ

১. আখেরাত ও দুনিয়া উভয় জগতের প্রয়োজন সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে দোয়া করা।

২. কোন পাপের বিষয় না চাওয়া।

৩. এমন বিষয় প্রার্থনা না করা, যার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে; (যেমন নারী দোয়া করবে না যেন সে পুরুষ হয়ে যায়, কিংবা বেটে মানুষ লম্বা হওয়ার বা কাল মানুষ ফর্সা হওয়ার দোয়া করবে না, ইত্যাদি।)

৪. কোন অসম্ভব বিষয়ের দোয়া না করা।

৫. নিজের মুখাপেক্ষিতা, প্রয়োজন ও অক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করা।

(জ) দোয়ার ভাষা বিষয়ক আদবসমূহঃ

১. হযরত রাসূল (সাঃ) থেকে বর্ণিত বা কুরআনে বর্ণিত ভাষায় দোয়া করা।

২. কথার ছন্দ মিলানোর জন্য কসরত না করা।

৩. কবিতার মাধ্যমে দোয়া করলে গানের ভঙ্গি থেকে বিরত থাকা।

দোয়া সম্পর্কে আরও বিশেষ কয়েকটি কথা

  • দোয়া কবূল হওয়ার জন্য ওলী বা মুত্তাকী হওয়া শর্ত নয়-পাপীদের দোয়াও আল্লাহ কবূল করে থাকেন। অবশ্য আল্লাহর খাস বান্দাদের দোয়া আল্লাহ বেশী কবূল করে থাকেন। অতএব আমি পাপী বা আমি নগণ্য-এরূপ ধারণার বশবর্তী হয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেয়া সমীচিন নয়।
  • কয়েকবার দোয়া করে হতাশ হয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়। কেননা মানুষের কল্যাণের জন্যই কখনো কখনো দোয়া বিলম্বে কবূল হয়।
  • দোয়া কখনো বৃথা যায় না। কখনও এমন হয় যে, মানুষ যা দোয়া করে হুবহু তা পায় ৷ কখনও যা চাওয়া হয় তা না দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য কোন নেয়ামত প্রদান করা হয় অথবা কোন বিপদকে তার থেকে হঠিয়ে দেয়া হয় বা দোয়ার ওছীলায় তার গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় কিংবা দুনিয়াতে যা চাওয়া হয় তা না দিয়ে পরকালের সঞ্চয় হিসেবে তা রেখে দেয়া হয়। মোটকথা-দোয়া কখনো বৃথা যায় না, তবে তা কবূল হওয়ার প্রক্রিয়া এক নয়।
  • সব সময়ই দোয়া করা যায়; তবে এমন কিছু সময় রয়েছে যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা’আলা বিশেষ ভাবে কবূল করে থাকেন।

দোয়া কবুল হওয়ার সময় বা বিশেষ কয়েকটি মুহূর্ত

১। ফরয নামাযের পর।

২। শেষ রাতে।

৩। রমযান মাসের দিবারাত্রির সব সময়, বিশেষভাবে ইফতারের সময়।

৪। কোন নেক কাজ সম্পাদনের পর।

৫। সফরের অবস্থায়। বিশেষ ভাবে যদি আল্লাহর দ্বীনের রাস্তায় সফর হয়।

৬। শবে কদরে।

৭। আরাফার দিনে।

৮। জুমুআর রাতে।

৯। জুমুআর দিন বিশেষ কোন এক মুহূর্তে। অনেকের মতে এ সময়টি জুমুআর দিন আসরের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যে রয়েছে।

১০। জুমুআর খুতবা শুরু হওয়া থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত, তবে খুতবা চলাকালীন দোয়া করলে মনে মনে করতে হবে অথবা ইমাম খুতবার মধ্যে যে দোয়া করবেন তাতে মনে মনে (মুখে কোন প্রকার শব্দ করা ছাড়া) আমীন বলতে হবে।)

কুরআনে বর্ণিত বিশেষ 20 টি দোয়া/মুনাজাত

(۱) ربنا ظلمنا أنفسنا وإن لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من الخسرين

(১) হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর এবং আমাদের প্রতি রহম না কর, তাহলোে অবশ্যই আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। (সূরা আ’রাফঃ ২৩)

(۲) ربنا فاغفر لنا ذنوبنا وكفر عنا سياتنا وتوفنا مع الابرار

(২) হে আমাদের রব! আমাদের সকল গোনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দূর করে দাও। আর আমাদেরকে মৃত্যু দাও নেককার লোকদের সাথে। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৯৩)

(۳) ربنا اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب

(৩) হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সমস্ত মুমিনকে ক্ষমা কর, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। (সূরা ইবরাহীমঃ ৪১)

(٤) رب ارحمهما كما ربيني صغيرا

(৪) হে আমার রব! তাঁদের (মাতা-পিতা) উভয়ের প্রতি রহম কর যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। (বানী ইসরাঈলঃ ২৪)

(٥) ربنا لاتزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا وهب لنا من لدنك رحمة إنك انت الوهاب

(৫) হে আমাদের রব! আমাদেরকে হেদায়েত করার পর তুমি আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিও না। তুমি তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা। (সূরা আলে ইমরানঃ ৮)

(٦) رب اجعلني مقيم الصلوة ومن ذريتي ربنا وتقبل دعاء

(৬) হে আমার রব! আমাকে এবং আমার সন্তানদেরকে নামায কায়েমকারী বানাও। (সূরাঃ ইবরাহীমঃ ৪০)

(۷) ربنا هب لنا من أزواجنا وذريتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين إماما

(৭) হে আমাদের পরওয়ারদিগার, আমাদের স্ত্রীদের থেকে এবং আমাদের সন্তানাদি থেকে আমাদেরকে শান্তি দান কর। আর মুত্তাকীদের জন্য আমাদেরকে নেতা (আদর্শ স্বরূপ) বানিয়ে দাও। (সূরাঃ ফুরকান: ৭৪)

(۸) ربنا اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار

(৮) হে আমাদের রব! তুমি দুনিয়াতেও আমাদেরকে কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও। আর জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর। (সূরা বাকারাঃ ২০১)

(۹) ربنا واتنا ما وعدتنا على رسلك ولاتخزنا يوم القيمة إنك لاتخلف الميعاد

(৯) হে আমাদের রব! আমাদেরকে তুমি দান কর যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন তুমি আমাদেরকে অপমানিত করো না, নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ কর না। (আলে ইমরানঃ ১৯৪)

(۱۰) رب اشرح لي صدري ويسر لي أمري واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي

(১০) হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ উন্মোচন করে দাও (অর্থাৎ, মনোবল বৃদ্ধি করে দাও, জ্ঞান বহন করার উপযোগী বানিয়ে দাও এবং দ্বীন প্রচার কার্যে হীনমন্যতা এবং বিরোধিতার কারণে সৃষ্ট সংকোচবোধ দূর করে দাও) আর আমার কাজ সহজ করে দাও এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দাও, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সূরা তাহাঃ ১৫-২৮)

(۱۱)  رَّبِّ زِدۡنِیۡ عِلۡمًا

(১১) হে আমার রব! তুমি আমার ইলম বৃদ্ধি করে দাও। (তাহাঃ ১১৪)

(۱۲) ربنا اغفرلنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولاتجعل في قلوبنا غلا للذين امنوا ربنا إنك رءوف رحيم

(১২) হে আমাদের রব! আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছেন। আর ঈমানদারদের প্রতি আমাদের অন্তরে যেন ঈর্ষা না হয়। হে আমাদের রব! নিশ্চয় তুমি বড় স্নেহশীল, করুণাময়। (সূরা হাশরঃ ১০)

(۱۳) رب اغفر وارحم وأنت خير الراحمين

(১৩) হে আমার রব! তুমি ক্ষমা কর এবং রহম কর, তুমিতো শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা মু’মিনূনঃ ১১৮)

(١٤) ربنا اصرف عنا عذاب جهنم إن عذابها كان غراما

(১৪) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও, তার শাস্তিতো নিশ্চিত ধ্বংস। (সূরা ফুরকানঃ ৬৫)

(١٥) رب هب لي حكما والحقني بالصلحين

(১৫) হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং আমাকে নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত কর। (সূরা শুআরাঃ ৮৩)

(١٦) رَبِّ نَجِّنِیۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

(১৬) হে আমার রব! আমাকে জালেম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা কর। (সূরা কাসাসঃ ২১)

(۱۷) رب انصرني على القوم المفسدين

(১৭) হে আমার প্রতিপালক! ফ্যাসাদী লোকদের মোকাবেলায় তুমি আমাকে সাহায্য কর। (সূরা আনকাবুতঃ ৩০)

(۱۸) ربنا لاتجعلنا فتنة للقوم الظلمين ونجنا برحمتك من القوم الکافرین

(১৮) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালেম লোকদের উৎপীড়নের পাত্র বানিওনা এবং তোমার রহমতে কাফের সম্প্রদায় থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর। (সূরা ইউনুস: ৮৫)

(۱۹) ربنا افتح بيننا وبين قومنا بالحق وأنت خير الفتحين

(১৯) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের মাঝে এবং আমাদের জাতির মাঝে সঠিক ফয়সালা করে দাও। তুমিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী। (সূরা আ’রাফঃ ৮৯)

(۲۰) ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم

(২০) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের থেকে কবূল কর, নিশ্চয়ই তুমি সব কিছু শুনতে পাও, সব কিছু জান। (সূরাঃ বাকারাঃ ১২৭)

হাদীসে বর্ণিত বিশেষ 10 টি দোয়া/মুনাজাত

(۱) اللهم إني أسألك الهدى والتقى والعفاف والغنى

(১) হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়েত, তাকওয়া, অন্যায় থেকে বিরত থাকার তওফীক এবং মনে অভাববোধ না থাকা ও সম্পদের স্বচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।

(۲) اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أنت أعلم به منى ، أنت المقدم وأنت المؤخر وأنت على كل شيء قدير

(২) হে আল্লাহ! আমার পূর্বের গোনাহ, পরের গোনাহ, প্রকাশ্যেকৃত গোনাহ এবং গোপনেকৃত গোনাহ আর আমার যত গোনাহ সম্পর্কে তুমি অবহিত আছ, সব ক্ষমা করে দাও। তুমি যাকে চাও আগে রহমতের তওফীক দাও এবং যাকে চাও তাকে পরে দাও। তুমি সব কিছুর ক্ষমতা রাখ !

(۳) اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني

(৩) হে আল্লাহ! তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে তুমি ভালবাস, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও।

(٤) اللهم إني أسألك علما نافعا وعملا متقبلا ورزقا طيبا

(৪) হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট চাই এমন ইল্ম যা উপকার দিবে, এমন আমল যা কবূল হবে এবং হালাল রিযিক।

(٥) اللهم إني أسألك الصحة والعفة وحسن الخلق والرضى بالقدر

(৫) হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট সুস্থ্যতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, সূচরিত্র এবং তাকদীরে রাজি থাকার তওফীক চাই।

(٦) اللهم طهر قلبي من النفاق وعملي من الرياء ولساني من الكذب وعيني من الخيانة ، فإنك تعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور

(৬) হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র করে দাও, আমার অন্তরকে মুনাফেকী থেকে, আমলকে রিয়া থেকে, যবানকে মিথ্যা থেকে এবং দৃষ্টিকে অন্যায় নজর থেকে ! তুমিতো চোখের ফাঁকি এবং অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে খুবই2

(۷) اللهم إني أسألك حبك وحب من يحبك والعمل الذي يبلغنى حبك – اللهم اجعل حبك أحب إلي من نفسي ومالي وأهلي ومن الماء البارد

(৭) হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে চাই তোমার ভালবাসা এবং তোমাকে যে ভালবাসে তার ভালবাসা আর এমন আমল, যা আমাকে তোমার ভালবাসায় উপনীত করবে। হে আল্লাহ! আমার জীবন, আমার ধন-সম্পদ এবং আমার পরিবার পরিজনের চেয়ে এবং ঠাণ্ডা পানির চেয়েও তোমার ভালবাসাকে আমার কাছে অধিক প্রিয় বানিয়ে দাও।

(۸) اللهم اجعل سريرتي خيرا من علانيتي واجعل علانيتي صالحة

(৮) হে আল্লাহ! আমার জাহিরী অবস্থার চেয়ে আমার বাতিনী অবস্থাকে সুন্দর বানিয়ে দাও আর জাহিরী অবস্থাকে দুরস্ত বানিয়ে দাও ৷

(۹) اللهم إني أسألك العافية والمعافاة في الدنيا والآخرة

(৯) হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া আখেরাত উভয় জাহানেরই মুক্তি ও নিরাপত্তা কামনা করছি।

(۱۰) اللهم إني أعوذ بك من الكفر والفقر وعذاب القبر

(১০) হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাই কুফ্রী থেকে, অভাব-অনটন থেকে এবং কবরের আযাব থেকে।

সূত্র: আহকামে যিন্দেগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!