Skip to content

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নামায পড়ার নিয়ম (নামাযের মধ্যে যা যা করতে হয় এবং যেভাবে যেভাবে করতে হয়, তার ধারাবাহিক বর্ণনা) + নামাযে মনোযোগ সৃষ্টির টিপস

নামায পড়ার নিয়ম। মুক্তাদী-র জন্য মাসআলা মাসায়েল। ইমামের জন্য মাসআলা মাসায়েল। মাছবূকের জন্য (জামাতের নামাজ সম্পূর্ণ না পাওয়া বা নামাজ ছুটে গলে) মাসআালা মাসায়েল। মাছবূক এক রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে? মাছবূক দুই রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে? মাছবূক তিন রাকআত ছুটে গেলে কিভাবে পড়বে? মাছবূক কোন রাকআত না পেলে কিভাবে পাড়বে?

নামায পড়ার নিয়ম

  • নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাঁড়ানো ফরয।
  • কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয।
  • পা দুটো সোজা কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত।
  • পায়ের মাঝখানে সামনে পেছনে সমান ফাঁক রাখবে যাতে পা সোজা কেবলামুখী হয় ৷
  • দুই পায়ের মাঝখানে হাতের মিলিত চার আঙ্গুলের পরিমাণ ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।
  • নামাযের নিয়ত (সংকল্প/ইচ্ছাপোষণ) বাধার পূর্ব পর্যন্ত হাত ছাড়া অবস্থায় রাখবে। (বাধা মাকরূহ)
  • উভয় পায়ের উপর সমান ভর করে দাঁড়াবে। এক পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর করে দাঁড়ানো মাকরূহ।
  • নিয়ত করা ফরয। নিয়তের ক্ষেত্রে প্রচলিত লম্বা চওড়া বাক্য বলা নিষ্প্রয়োজনীয় ৷ ফরযের ক্ষেত্রে শুধু কোন্ ওয়াক্তের ফরয তার উল্লেখ এবং সুন্নাত নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামাযের উল্লেখ করলেই যথেষ্ট।
  • নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা উত্তম।
  • নিয়ত আরবীতে বলা ভাল। (বেহেশতী জেওর) আরবীতেই নিয়ত করতে হবে- এমন জরুরী মনে করা ঠিক নয়।
  • নিয়ত বাধার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠানো সুন্নাতে মুআক্কাদা। হাত উঠানোর সময় পুরুষগণ চাদর পরিহিত থাকলে তার মধ্য থেকে হাত বের করবে। মহিলাগণ কাপড়ের মধ্য থেকে হাত বের করবে না। মহিলাগণ সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে এমনভাবে যেন আঙ্গুলের অগ্রভাগ কাঁধ পর্যন্ত উঠে।
  • পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য হাতের তালু আঙ্গুলের পেটসহ কেবলামুখী রাখা (উপর দিকে নয়) সুন্নাত।
  • হাতের আঙ্গুলসমূহকে মিলাবে না বরং আঙ্গুল সমূহের মাঝে স্বাভাবিক ফাঁক থাকবে, এটাই সুন্নাত।
  • পুরুষের জন্য দুই বৃদ্ধ আঙ্গুলের অগ্রভাগ কানের লতির সাথে লাগানো মোস্তাহাব।
  • আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাধবে। এই তাকবীর ফরয। এটাকে তাকবীরে তাহরীমা বলে।
  • আল্লাহু এবং আকবার শব্দ দুটোর আলিফে জোর দিয়ে উচ্চারণ করা এবং হা কে সামান্য টানের আভাস দিয়ে উচ্চারণ করা উত্তম।
  • হাত উঠিয়ে কানের লতির সাথে বৃদ্ধ আঙ্গুল স্পর্শ করার পর আল্লাহু আকবার বলতে শুরু করা উত্তম। হাত উঠাতে উঠাতে বা হাত উঠানো শুরু করার পূর্বেও আল্লাহু আকবার বলে নেয়া যায়।
  • হাত বাধা সম্পূর্ণ হবে, আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে-এরূপ করা উত্তম।
  • কান থেকে হাত সোজা বাধার দিকে নিয়ে যাবে, হাত সোজা নীচের দিকে ছেড়ে দিবে না বা পেছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।
  • তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় স্বাভাবিক ভাবে সোজা দাঁড়ানো থাকবে-মাথা নীচের দিকে ঝুঁকাবে না।
  • নাভীর নীচে হাত বাধা সুন্নাত (নাভীর পরেও রাখা যায়।)
  • ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে।
  • ডান হাতের বৃদ্ধ ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরা সুন্নাত।
  • ডান হাতের অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকবে। (মহিলাগণ সিনার উপর ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নিয়ত বাধবে। এটা সুন্নাত)
  • উভয় হাত পেটের সাথে চেপে ধরে রাখবে, তাহলোে অলসভাব আসবে না।
  • ছানা পড়া সুন্নাত।

ছানা এইঃ

سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك .

  • আউযূ বিল্মহি মিনাশ শাইতানির রজীম পড়া সুন্নাত।
  • বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়া সুন্নাত।
  • সুরায়ে ফাতিহা পড়া ওয়াজিব।
  • সূরা ফাতিহার প্রত্যেক আয়াতে ওয়াক্ফ করে পড়া উত্তম।
  • সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমীন’ পড়া সুন্নাত।
  • ‘আমীন’ উচ্চারণ করে বলা সুন্নাত।
  • সূরা/কিরাত মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়া মোস্তাহাব।
  • তারপর সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।
  • প্রতি পরবর্তী রাকআতের সূরা/কিরাত তারতীব অনুযায়ী পড়া অর্থাৎ, সামনের থেকে কোন সূরা/কিরাত পড়া, পেছন দিক থেকে না পড়া। এই তারতীব রক্ষা করা ওয়াজিব। এর বিপরীত করলে নামায মাকরূহ হবে তবে সাজদায়ে সহো ওয়াজিব হবে না।
  • অধিক সহীহ মতানুসারে এতটুকু শব্দে কিরাত পড়া যেন নিজে শব্দ শুনতে পায়। তাকবীর ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এ মাসআলা প্রযোজ্য।
  • সূরা যুলযিলাত থেকে সূরা নাছ পর্যন্ত এই ছোট সূরাগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রাকআতে যেটা পড়া হয়েছে পরবর্তী রাকআতে একটা বাদ দিয়ে তার পরেরটা পড়বে না। ফরয এবং ওয়াজিব নামাযে এরূপ করা মাকরূহ। বাদ দিয়ে পড়তে হলোে কমপক্ষে দু’টি বাদ দিয়ে পরেরটা পড়া যাবে।
  • সূরা/কিরাত শেষ করার পর একটু বিরতি যোগে দম নিয়ে রুকুতে যাওয়ার তাক্বীর বলা সুন্নাত।
  • রুকুতে যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলা সুন্নাত।
  • আল্লাহু আকবার বলে হাত রুকুতে হাটুর দিকে নিয়ে যাবে। হাত সোজা ছেড়ে দিবে না বা পেছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।
  • রুকুর জন্য ঝোঁকার সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলা শুরু করবে এবং রুকুতে সোজা স্থির হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে। এটা সুন্নাত তরীকা রুকুতে পিঠ বরাবর সোজা রাখা সুন্নাত।
  • কোমর এবং মাথা এক বরাবর রাখবে-সামনে বা পেছনে ঝুঁকাবে না।
  • পাঁজর থেকে বাহুকে পৃথক রাখবে।
  • রুকুতে উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা সুন্নাত।
  • শক্তভাবে হাটু ধরা সুন্নাত।
  • উভয় হাতের কনুই সোজা রাখবে- ভাজ করে রাখবে না। মহিলাগণ উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিত রেখে হাটুর উপর হাত রাখবে, হাটু ধরবে না এবং হাতের বাহু পাজরের সাথে মিলিত রেখে অল্প ঝুঁকে রুকু করবে এবং হাঁটু সামনের দিকে ঝুঁকিরে রাখবে আর পিঠ সামান্য বাঁকা রাখবে। রুকুতে নজর উভয় পায়ের পাতা বা পায়ের আঙ্গুলের প্রতি নিবদ্ধ রাখা আদব।
  • পুরুষগণ রুকুতে দুই টাখনুকে দাঁড়ানোর অবস্থার মত পৃথক রাখবে এবং নারীগণ মিলিয়ে রাখবে।
  • রুকুতে ‘সুবহানা রব্বী আর আযীম’ পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহ তিন/পাঁচ/সাত এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহের অর্থ হলো আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
  • ‘সামি আল্লহু লিমান হামদা’ (অর্থাৎ, আল্লাহ শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।) বলে রুকু থেকে উঠা সুন্নাত।
  • সোজা হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে। এটা সুন্নাত।
  • রুকুর থেকে সোজা স্থির হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব।
  • সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর ’রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ (অর্থাৎ, হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য।) বলা সুন্নাত।
  • সাজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলা সুন্নাত।
  • সাজদায় জমীনে কপাল লাগানোর সাথে সাথে ‘আকবার’ বলা শেষ করবে। এটা সুন্নাত তরীকা।
  • সাজদায় যাওয়ার সময় উভয় হাটু একত্রে, তারপর উভয় হাত একত্রে, তারপর নাক এবং তারপর কপাল জমীনে রাখবে। এই তারতীব সুন্নাত। ওজরের সময় হাটুর পূর্বে হাত রাখতে হলোে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, তারপর উভয় হাটু একত্রে রাখবে।
  • হাঁটু জমীনে লাগার পূর্বে কোমর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকানো মাকরূহ বরং কোমর সোজা রাখবে।
  • সাজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর উপর হাত দিয়ে ভর না করা, এতে হাঁটু মাটিতে লাগার পূর্বেই কোমর ও মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। তদুপরি অনেকে এটাকে সুন্নাত মনে করে বিধায় এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • সাজদায় যাওয়ার সময় কাপড় নাড়াচাড়া বা টানাটানি করবে না। এরূপ করা মাকরূহ।
  • সাজদায় উভয় হাতের মাঝে চেহারার চওড়া পরিমাণ ফাঁক রাখবে।
  • উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুল খুব মিলিয়ে রাখা সুন্নাত।
  • উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী রাখা সুন্নাত।
  • উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখবে।
  • নজর নাকের উপর রাখা আদব।
  • দুই পায়ের টাখনু কাছাকাছি রাখবে, মিলাবে না। সাজদাতে টাখনু মিলানো বা পৃথক রাখা সম্পর্কে হাদীছে উভয় রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়। এতদুভয়ের মাঝে সমন্বয় হলো কাছাকাছি রাখবে। গ্রন্থে কয়েকটি যুক্তির ভিত্তিতে এটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
  • উভয় পা খাড়া রাখবে।
  • পায়ের আঙ্গুলসমূহ জমীনের সাথে চেপে ধরে যথাসম্ভব আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী করে রাখবে।
  • কপালের অধিকাংশ ও নাক জমীনের সংঙ্গে লাগিয়ে রাখা ওয়াজিব।
  • পুরুষগণ পেট রান থেকে, বাহু পাজর থেকে এবং কনুই জমীন থেকে পৃথক রাখবে।
  • মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে এবং পেট দুই রানের সঙ্গে এবং বাহু পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে ও কনুই পর্যন্ত হাত জমীনের সঙ্গে লাগিয়ে খুব চেপে সাজদা করবে।
  • সাজদায় ‘সুবহানা রাব্বি আল আলা’ ( আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহ তিন/পাঁচ/সাত-এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত।
  • আল্লাহু আকবার বলে সাজদা থেকে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত।
  • সোজা হয়ে বসার সাথে সাথে আকবার বলা শেষ করবে। এটাই সুন্নাত তরীকা।
  • বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নাত। মহিলাগণ দুই নিতম্বের উপর বসবে।
  • বসার সময় পুরুষের জন্য ডান পা সোজা খাড়া রাখা সুন্নাত।
  • ডান পা জমীনের সঙ্গে চেপে ধরে যথা সম্ভব ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে।
  • বসার সময় হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।
  • মহিলাগণ আঙ্গুল মিলেয়ে রাখবে।
  • হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা কেবলামুখী করে রাখা মোস্তাহাব।
  • হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ হাটুর কিনারা বরাবর রাখবে।
  • বসার সময় নজর কোলের উপর নিবদ্ধ রাখা আদব।
  • দুই সাজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব 1
  • দুই সাজদার মাঝখানে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া মোস্তাহাবঃ

– اللهم اغفر لي وارحمني وعافني واهدني وارزقني وارفعني واجبرني

দ্বিতীয় সাজদায় যাওয়ার এবং সাজদার মধ্যে উপরোক্ত আমল সমূহ (১৮টা) করা।

  • দ্বিতীয় সাজদা থেকেও আল্লাহু আকবার বলে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত এবং তারপর হাঁটু জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত।
  • ২য় সাজদা থেকে উঠে বসা ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নাত।
  • হাঁটুর উপর হাতে ভর করে উঠা মোস্তাহাব। *
  • সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে আকবার শব্দের উচ্চারণ শেষ করবে।
  • ২য় রাকআতে ২য় সাজদা থেকে উঠে বসে তাশাহ্হুদ পড়া ওয়াজিব।
  • তাশাহ্হুদ-এর মধ্যে ‘আশহাদু আল’ বলতে বলতে হাতের হলোকা বাধা অর্থাৎ, ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুলের অগ্রভাগ এবং মধ্যমার অগ্রভাগকে মিলানো এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকাকে হাতের তালুর সঙ্গে মিলানো। এটা মোস্তাহাব। ‘লাইলাহা’ বলতে বলতে শাহাদাত অঙ্গুলিকে উপর দিকে উঠানো, এতটুকু উঠানো যেন তার অগ্রভাগ কেবলামুখী হয়ে যায়। ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় নীচের দিকে নামানো। তবে বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রানের সাথে না মিলিয়ে উঁচু করে রাখা নিয়ম। এই হলোকা বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রাখবে।
  • তাশাহ্হুদের পর দুরূদ শরীফ পড়া সুন্নাত।
  • তারপর দোয়ায়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।
  • তারপর ‘আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ’ বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজিব।
  • সালাম ফিরানোর সময় নজর কাঁধের উপর রাখা মোস্তাহাব।
  • ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের ফিরিশতাকে সালাম করার নিয়ত করবে। অনুরূপ বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের ফিরিশতাকে সালামের নিয়ত করবে।
  • উভয় সালাম চেহারা কেবলামুখী থাকা অবস্থায় শুরু করবে। এবং কাঁধে নযর করে শেষ করবে।
  • দ্বিতীয় সালামকে কম দীর্ঘ করা এবং আওয়াজ নীচু করা সুন্নাত।
  • সালামের সময় ঘাড় এতটুকু ফিরানো যেন (পিছনে কেউ থাকলে) তার চেহারার উক্ত পাশ দেখতে পারে।
  • এতক্ষণ দুই রাকআত নামাযের বিবরণ পেশ করা হলো। তিন/চার রাকআত বিশিষ্ট নামায হলোে দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে তৃতীয় রাকআতের জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠবে। আর সুন্নাতে গায়রে মুআক্কাদা বা নফল নামায হলোে প্রথম বৈঠকে দুরূদ এবং দোয়ায়ে মাছ্‌রাও পড়ে তারপর উঠা উত্তম। উল্লেখ্য যে, এ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বৈঠকে দুরূদ এবং দোয়ায়ে মাছুরা পড়ে উঠলে তৃতীয় রাকআতে ছানা এবং সূরা ফাতেহার পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়াও উত্তম।
  • তিন/চার রাকআত বিশিষ্ট নামায ফরয হলোে তৃতীয়/চতুর্থ রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া উত্তম। আর ফরয ব্যতীত অন্যান্য নামাযে ৩য়/৪র্থ রাকআতে সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।
  • শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর দুরূদ শরীফ পড়া সুন্নাত এবং দোয়ায়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

মুক্তাদী-র জন্য মাসআলা মাসায়েল

  • মুক্তাদী ইমামের পেছনে এক্তেদা করার নিয়ত করবে। এক্তেদার নিয়ত ব্যতীত মুক্তাদীর নামায সহীহ হয় না।
  • ইমামের তাকবীরে তাহ্রীমা- ‘আল্লাহু আকবার’ শেষ হওয়ার পূর্বে মুক্তাদীর তাকবীর যেন শেষ না হয়।
  • ইমামের তাকবীরে তাহরীমা শেষ হওয়ার পর সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা বলা উত্তম।
  • ইমাম সূরা/কিরাত শুরু করলে মুক্তাদী ছানা পড়বে না।
  • মুক্তাদী ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা বা কিরাত কোনটা পাঠ করবে না। সূরা ফাতিহার পূর্বে শুরুতে পঠিতব্য বিসমিল্লাহও পাঠ করবে না।
  • মুক্তাদী ‘সামি আল্লহু লীমান হামিদা’ না বলে তদস্থলে ’রব্বানা লাকাল হামদ’ বলতে বলতে উঠবে।
  • সালাম ফিরানোর সময় ইমামের আস্সালামু বলার পূর্বে মুক্তাদীর আস্সালামু বলা যেন শেষ না হয়।
  • ইমামের সালাম ফিরানোর পর সাথে সাথে মুক্তাদীর সালাম ফিরানো উত্তম।
  • ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের মুসল্লী এবং নেককার জিনদেরকে সালাম করার নিয়ত করবে, ইমাম ডান দিকে থাকলে ইমামকে সালাম করার নিয়তও করবে, আর বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের মুসল্লী এবং নেককার জিনদেরকে সালাম করার নিয়ত করবে। ইমাম বাম দিকে থাকলে বাম সালামে তাঁরও নিয়ত করবে। আর ইমাম সোজা বরাবর থাকলে উভয় সালামেই তাঁর নিয়ত করবে।

মাছবূকের জন্য (জামাতের নামাজ সম্পূর্ণ না পাওয়া বা নামাজ ছুটে গলে) মাসআালা মাসায়েল

যে মুক্তাদী ইমামের সাথে প্রথম রাকআত থেকে শরীক হতে পারেনি, শুরুর দিকে এক বা একাধিক রাকআত ছুটে গিয়েছে, তাকে মাছবূক বলা হয়।

  • ইমামের শেষ বৈঠকে মাবূক তাশাহ্হুদ এমন ধীরে ধীরে পড়বে, যেন তার তাশাহ্হুদ শেষ হতে হতে ইমামের দুরূদ ও দোয়ায়ে মাছুরা শেষ হয়ে যায়। তবে আগেই তাশাহ্হুদ শেষ হয়ে গেলে তাশাহ্হুদের শেষ বাক্যটা (অর্থাৎ, কালিমায়ে শাহাদাত) বারবার আওড়াতে পারে বা চুপচাপ বসে থাকতে পারে বা তাশাহ্হুদ পুনরায় পড়তে পারে।
  • ইমাম সাজদায়ে সহো দিলে মাছবূকও সাজদায়ে সাহো করবে, তবে সাজদায়ে সহো-র সালাম ফিরাবে না।
  • মাছবূক ইমামের সাথে শেষ সালাম ফিরাবে না। তবে ভুলে ফিরিয়ে ফেললে সাজদায়ে সহো দিবে।
  • ইমাম উভয় দিকে সালাম ফিরানোর সামান্য পর মাছবূক অবশিষ্ট নামায পড়ার জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে। ইমামের এক সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীর উঠে দাঁড়ানো সুন্নাতের ফেলাফ।
  • মাছবূক অবশিষ্ট নামায পড়ার জন্য উঠে ছানা, আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়বে। প্রথমে কিরাত মিলানোর রাকআত/রাকআতগুলো, তারপর কিরাত বিহীন রাকআত/রাকআতগুলো পড়বে। ইমাম যে সূরা/কিরাত পড়েছেন তার সাথে তারতীব রক্ষা করা মাছবূকের জন্য জরুরী নয়।

মাছবূক এক রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে?

ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাছবূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে, ছানা পড়বে, আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতেহা পড়বে, তারপর বিসমিল্লাহ সহ সূরা মিলাবে এবং রুকু সাজদা ও বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

মাছবূক দুই রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে?

ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাছবূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে এবং পূর্ব বর্ণিত নিয়মে প্রথম রাকআত আদায় করবে। তিন রাকআত বিশিষ্ট নামায হলোে বৈঠক করে (বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়তে হবে) আর চার রাকআত বিশিষ্ট নামায হলোে বৈঠক না করেই দ্বিতীয় রাকজাতের জন্য উঠবে। এ রাকআতে ছানা ব্যতীত এবং শুধু বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ও সূরা/কিরাত মিলিয়ে শুধু সাজদা ও বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

মাছবূক তিন রাকআত ছুটে গেলে কিভাবে পড়বে?

মাছবূক যদি ইমামের সাথে এক রাকআত পায় এবং তিন রাকআত না পায়, তাহলোে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে পূর্ববর্তী নিয়মে প্রথম রাকআত পড়বে এবং বৈঠক করে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠবে। দ্বিতীয় রাকআতে সূরা/কিরাত মিলাতে হবে এবং বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকআতের জন্য উঠবে ৷ তৃতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে কোন সূরা/কিরাত মিলাতে হবে না।

মাছবূক কোন রাকআত না পেলে কিভাবে পাড়বে?

মাছবূক যদি কোন রাকআত না পায় শুধু শেষ বৈঠকে এসে শরীক হয়, তাহলোে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে একাকী যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবে পূর্ণ নামায আদায় করবে।

ইমামের জন্য মাসআলা মাসায়েল

  • উত্তম লেবাছ পরিধান করে নামায পড়ানো এবং পড়া উত্তম।
  • ইমাম ইমামতের নিয়ত করবেন। নতুবা ইমামতের ছওয়াব অর্জিত হবে না।
  • ইমামের জন্য সম্পূর্ণ মেহরাবের মধ্যে দাঁড়ানো মাকরূহ তানযীহী।
  • ইমাম প্রত্যেক উঠা বসা ইত্যাদির তাকবীর ও ‘সামি আল্লহু লীমান হামিদা’ এবং সালাম জোরে বলবেন। প্রয়োজনের চেয়ে খুব বেশী জোরে বলা মাকরূহ।
  • জেহরী নামাযে (অর্থাৎ, মাগরিব ইশা ফজর ইত্যাদিতে) প্রথম দু-রাকআতে সূরা/কিরাত জোরে পড়বেন।
  • মুসল্লীদের মধ্যে অসুস্থ্য বা হাজতমান্দ লোক থাকলে হালকা কিরাত পড়বেন। তবে সুন্নাত পরিমাণ ছেড়ে নয়।
  • রুকুর থেকে উঠার পর রব্বানা লাকাল হাম্দ বলবেন না।
  • ইমামের জন্য রুকু সাজদায় তাসবীহ তিন/পাঁচবার এমনভাবে পড়া উত্তম, যেন মুক্তাদীগণ সাধারণ ভাবে তিনবার পড়তে পারে। তবে মুক্তাদীগণ কষ্ট বোধ করার আশংকা না থাকলে অধিকও পড়তে পারেন।
  • ইমাম দুই সাজদার মধ্যখানে বৈঠকে দোয়া পড়বেননা তবে শুধু ‘আল্লহুম্মাগফিরলি’ এতটুকু পড়তে পারেন।
  • ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের মুক্তাদী এবং বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের মুক্তাদীদেরও নিয়ত করবেন।
  • ফজর এবং আসর নামাযের সালামান্তে মুসল্লীদের দিকে ফিরে বসবেন। ডান দিক দিয়ে ফেরা এবং ডান দিকের মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসা উত্তম ৷ তবে বাম দিক দিয়ে ফেরা কিংবা পেছনের দিকে ফিরে সোজা পূর্বমূখী হয়ে বসাও জায়েয।
  • ফরয নামাযের পর অন্যত্র সরে সুন্নাত পড়া উত্তম।

নামাযে মনোযোগ সৃষ্টির জন্য যা যা করণীয়

১. নামাযে সূরা/কিরাত, দোয়া, দুরূদ, ইত্যাদি যা যা পড়া হয় তার প্রত্যেকটা শব্দে শব্দে খেয়াল করে পড়া, বে খেয়ালীর সাথে মুখস্ত থেকে না পড়া। আর ইমামের সূরা/কিরাত শোনা গেলে সে ক্ষেত্রে মনোযোগের সাথে তা শোনা।

২. নামাযের প্রত্যেক রুকন ও কাজ মাসআলা অনুযায়ী হচ্ছে কি-না তার প্রতি খুব খেয়াল রেখে আদায় করা।

৩. আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছি, আল্লাহ আমার নামাযের সব কিছু দেখছেন, কিয়ামতের দিন এই নামাযের সব কিছুর পুংখানুপুংখ হিসাব তার কাছে দিতে হবে-এই ধ্যান জাগ্রত রাখা।

সূত্র: আহকামে যিন্দেগী।

সমাপ্তঃ
নামায পড়ার নিয়ম। মুক্তাদী-র জন্য মাসআলা মাসায়েল। ইমামের জন্য মাসআলা মাসায়েল। মাছবূকের জন্য (জামাতের নামাজ সম্পূর্ণ না পাওয়া বা নামাজ ছুটে গলে) মাসআালা মাসায়েল। মাছবূক এক রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে? মাছবূক দুই রাকআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে? মাছবূক তিন রাকআত ছুটে গেলে কিভাবে পড়বে? মাছবূক কোন রাকআত না পেলে কিভাবে পাড়বে? নামাযে মনোযোগ সৃষ্টির টিপস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!