Skip to content

মসজিদে যাওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদে প্রবেশের সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদের ভিতরের সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, আযান ও ইকামতের জবাব দেওয়া কি? কোন অবস্থায় আযানের জওয়াব দেয়া উচিৎ নয়, আযানের সময়কার বিশেষ কয়েকটি আমল

মসজিদে যাওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদে প্রবেশের সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদের ভিতরের সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ, আযান ও ইকামতের জবাব দেওয়া কি? কোন অবস্থায় আযানের জওয়াব দেয়া উচিৎ নয়, আযানের সময়কার বিশেষ কয়েকটি আমল

আলোচনার বিষয়ঃ
মসজিদে যাওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ।
মসজিদে প্রবেশের সুন্নাত ও আদব সমূহ।
মসজিদের ভিতরের সুন্নাত ও আদব সমূহ।
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ।
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ।
আযান ও ইকামতের জবাব দেওয়া কি?
কোন অবস্থায় আযানের জওয়াব দেয়া উচিৎ নয়?
আযানের সময়কার বিশেষ কয়েকটি আমল।

আযান ও ইকামতের জবাব দেওয়া কি?

♦ আযান ও ইকামতের জওয়াব দেয়া মোস্তাহাব। নারী পুরুষ সকলের জন্যই আযানের জওয়াব দেয়া মোস্তাহাব। যে ব্যক্তি মসজিদের মধ্যে রয়েছে তার জন্যও মুখে জওয়াব দেয়া মোস্তাহাব। পাক নাপাক সকলেরই জন্য আযানের জওয়াব দেয়া মোস্তাহাব। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ও নেফাসওয়ালী মহিলার জন্য আযানের জওয়াব দেয়ার হুকুম নেই।

♦ যে ব্যক্তি মসজিদের বাইরে রয়েছে তার জন্য ইজাবাত বিল্লিছান অর্থাৎ, মৌখিক জওয়াব (যে সম্পর্কে পূর্বে বলা হলো) ছাড়াও ইজাবাত বিল কদম অর্থাৎ, মসজিদে জামা’আতের জন্য গমন-এর মাধ্যমে জওয়াব দেয়া জরুরী। তবে অপরাগতার ক্ষেত্রে শুধু মুখে জওয়াব দেয়াই যথেষ্ট হবে।

♦ কয়েক স্থানের আযান শোনা গেলে সর্বপ্রথম যে আযান শোনা যায় (নিজের মহলো্লার হোক বা ভিন্ন মহলো্লার) তার জওয়াব দিলেই যথেষ্ট। তবে সবটার জওয়াব দিতে পারলে ভাল।

♦ জুমুআর ছানী (দ্বিতীয়) আযানের জওয়াব দিতে হয় না, তবে মনে মনে (মুখে উচ্চারণ ব্যতীত) দেয়া যায়।

♦ যদি কেউ আযানের জওয়াব না দিয়ে থাকে এবং বেশীক্ষণ অতিবাহিত না হয়ে থাকে, তাহলোে তখন জওয়াব দিবে।

♦ উযূ অবস্থায় আযান হতে থাকলে উযূত্ত করতে থাকবে আযানের জওয়াবও দিতে থাকবে।

কোন অবস্থায় আযানের জওয়াব দেয়া উচিৎ নয়?

১. নামাযের অবস্থায়।

২. খুতবার সময়; জুমুআর খুতবা হোক বা বিবাহের খুতবা।

৩. হায়েয অবস্থায়।

৪. নেফাসের অবস্থায়।

৫. দ্বীনী ইলম বা শরীয়তের মাসআলা-মাসায়েল শিখবার বা শিক্ষা দেওয়ার সময়। কিন্তু কুরআন তিলাওয়াতের সময় আযান হলোে তিলাওয়াত বন্ধ করে তার জওয়াব দেয়া উত্তম বলা হয়েছে।

♦ আযানের বাক্যগুলোর জওয়াব দেয়ার পর (আযান শেষ হওয়ার পর) দরূদ শরীফ পড়বে। তারপর নিম্নোক্ত দোয়া পড়া মোস্তাহাব।

اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلوة القائمة ان محمدان الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودان الذي وعدته إنك لا تخلف الميعاد

অর্থ: হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহবান ও অনুষ্ঠিতব্য নামাযের রব, তুমি মুহাম্মাদ (সাঃ) কে দান কর ওহীলা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁকে পৌঁছাও মাকামে মাথূদে (প্রশংসনীয় স্থানে) যার ওয়াদা তুমি তাঁর সাথে করেছ। নিশ্চয়ই তুমি ওয়াদা ভঙ্গ করনা।

وأنا أشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله۔ رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا

অর্থ: আর আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক- তাঁর কোন শরীক নেই। এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহর প্রতি রব হিসেবে, ইসলামের প্রতি দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি রাসূল হিসেবে।

♦ উপরোল্লেখিত দোয়া (আযান পরবর্তী দোয়া) পড়ার সময় হাত উঠানোর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

আযানের সময়কার বিশেষ কয়েকটি আমল

♦ আযানের সময় (বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে) কথা-বার্তা না বলাই উত্তম। চুপ থাকাই মোস্তাহাব।

♦ আযান শুরু হওয়ার পর ইস্তেজায় লিপ্ত হবে না, ইস্তেন্‌জাখানায় প্রবেশ করবে না। তবে নামাযের জামা’আত ভঙ্গ হওয়ার আশংকা বা বিশেষ কোন ওজর দেখা দিলে ভিন্ন কথা।

মসজিদে যাওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ

১. শরীর পবিত্র করে নিবে।

২. কাপড় পবিত্র করে নিবে।

৩. ঘর থেকে উযূ করে মসজিদে যাবে। মসজিদে যেয়ে উযূ করার চেয়ে ঘর থেকে উযূ করে যাওয়া উত্তম।

৪. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ ও বের হওয়ার দোয়া পড়বে।

বিসমিল্লাহ সহ দোয়াটি এইঃ

بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله

অর্থ: আল্লাহর নাম নিয়ে বের হলোাম। আল্লাহর উপর ভরসা, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি লাভ হয় না।

৫. ধীরস্থির ভাবে চলবে।

৬. গাম্ভীর্যের সাথে চলবে।

৭. চলার পথে হাসি-তামাশা, ক্রীড়া-কৌতুক ও অহেতুক কাজ থেকে বিরত থাকবে।

৮. চলতে চলতে এই দোয়া পড়েব।

اللهم اجعل في قلبي نورا وفي لساني نورا واجعل في سمعي نورا واجعل في بصري نورا واجعل من خلفي نورا ومن أمامي نورا واجعل من فوقي نورا ومن تحتي نورا اللهم أعطني نورا

অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি দান কর আমার অন্তরে নূর এবং যবানে নূর। দান কর আমার শ্রবণ শক্তিতে নূর, দান কর আমার দৃষ্টিশক্তিতে নূর, দান কর আমার পশ্চাতে নূর এবং আমার সম্মুখে নূর, দান কর আমার উপরে নূর এবং আমার নীচে নূর। হে আল্লাহ! তুমি দান কর আমাকে নূর।

৯. প্রত্যেকটা কদমে কদমে ছওয়াব হবে-এই বিশ্বাস ও আশা মনে বদ্ধমূল রেখে পথ চলবে।

১০. পথ চলার অন্যান্য আমল পালন করবে।

মসজিদে প্রবেশের সুন্নাত ও আদব সমূহ

১. নত চোখে, ভীত মনে মসজিদে প্রবেশ করবে।

২. মসজিদে প্রবেশের পূর্বে জুতা খুলে নিবে। জুতা ভিতরে নিতে হলোে ঝেড়ে পরিষ্কার পূর্বক নিবে।

৩. প্রথমে বাম পায়ের জুতা তারপর ডান পায়ের জুতা খুলবে।

৪. প্রবেশের পূর্বে বিস্মিল্লাহ পড়বে।

৫. দুরূদ ও সালাম পড়বে।

৬. দোয়া পড়বে।

এই তিনটাকে একত্রে এভাবে পড়া যায়ঃ

بسم الله والصلوة والسلام على رسول الله اللهم افتح لي أبواب رحمتك

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গোনাহ মাফ কর এবং আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা সমূহ খুলে দাও।

৭. প্রবেশ কালে এই দোয়াও পড়বে।

رب انزلني منزلا مباركا وانت خير المنزلين

অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি কল্যাণকর ভাবে আমাকে অবতরণ করাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।

মসজিদের ভিতরের সুন্নাত ও আদব সমূহ

১. মসজিদে প্রবেশ করতঃ (নফল) এ’তেকাফের নিয়ত করবে।

২. শয়তান থেকে পানাহ চাওয়ার নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে:

 أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم

৩. যে বা যারা নামাযে রত নয় তাদেরকে এমনভাবে সালাম দিবে যেন নামাযে রত লোকদের নামাযে ব্যাঘাত না ঘটে।

৪. মসজিদে কেউ না থাকলে বা অবসর কেউ না থাকলে এই বলে (আস্তে) সালাম দিবেঃ

السّلام علينا وعلى عباد الله الصالحين

৫. হারাম এবং মাকরূহ ওয়াক্ত না হলোে মসজিদে প্রবেশ পূর্বক দুই রাকআত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ/দুখুলুল মাসজিদ নামায পড়বে। এই নামায বসার পূর্বেই পড়া উত্তম ৷ এই নামায না পড়লে দুরূদ শরীফ পড়বে এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি চার বার পাঠ করবে:

سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر

৬. উপরোক্ত যিকিরসহ অন্যান্য যিকির বেশী বেশী করা উত্তম।

৭. মোনাছেব মত নেক কাজের কথা বলবে এবং গোনাহের কাজ দেখলে বাধা দিবে। এ দায়িত্ব মসজিদের বাইরেও রয়েছে তবে মসজিদে থাকাকালীন এর গুরুত্ব অধিক।

৮. মসজিদে বেচা-কেনা না করা।

৯. কাউকে বেচা-কেনা করতে দেখলে বলবে:

لا أربح الله تجارتك

অর্থঃ আল্লাহ যেন তোমার কেনা-বেচায় লাভ না দেন।

১০. কোন হারানো বস্তু তালাশের উদ্দেশ্যে মসজিদে ঘোষণা না দেয়া।

১১. কাউকে উপরোক্ত ঘোষণা করতে শুনলে বলবে:

لا ردها الله عليك فإن المساجد لم تبن لهذا

অর্থ: আল্লাহ যেন ওটা তোমার কাছে ফিরিয়ে না দেন। মসজিদতো এ উদ্দেশ্যে বানানো হয়নি।

১২. আল্লাহ্ যিকির ব্যতীত আওয়াজ উঁচু না করা।

১৩. কোন শোরগোল না করা।

১৪. তলোয়ার বা ভীতিমূলক কিছু উন্মুক্ত না রাখা।

১৫. মসজিদে নিজের জন্য কিছু সওয়াল করা নিষেধ এবং এরূপ সওয়ালকারীকে কিছু প্রদান করা মাকরূহ, তবে কোন হাজতমান্দ ব্যক্তির সহযোগিতার জন্য অন্য কেউ বলে দিতে পারে।

১৬. মসজিদে দুনিয়াবী কথা-বার্তা না বলা। তবে কারও সাথে সাক্ষাৎ হলোে সংক্ষেপে হালতপুরছী করা (হাল অবস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করা) নিষেধ নয়।

১৭. মসজিদে রাজনৈতিক মিটিং সিটিং করা মসজিদের আদব এহতেরামের খেলাপ।

১৮. মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে না যাওয়া।

১৯. মসজিদে কোন স্থান দখল নিয়ে ঝগড়া না করা।

২০. কেউ কোন স্থান থেকে প্রয়োজনে উঠে গিয়ে থাকলে এবং আবার সেখানে আসবে বুঝতে পারলে তার স্থান দখল না করা।

২১. কাতারের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে কারও উপর চাপ সৃষ্টি না করা।

২২. নামাযরত ব্যক্তির সন্মুখ দিয়ে অতিক্রম না করা। (নামাযীর সোজা সামনে কেউ বসা থাকলে তিনি এক দিকে সরে যেতে পারেন।)

২৩. মসজিদে কফ, থুথু, শিকনি না ফেলা বা কোনভাবে ময়লা আবর্জনা কিংবা নাপাকী না ফেলা।

২৪. মসজিদে আঙ্গুল না ফোটানো।

২৫. মসজিদে বায়ু ত্যাগ না করা উত্তম, প্রয়োজন হলোে বাইরে এসে বায়ু ত্যাগ করবে।

২৬. শিশু এবং পাগলদেরকে মসজিদে না আনা। যে শিশু এবং পাগল দ্বারা মসজিদ নাপাক হওয়ার প্রবল ধারণা থাকে তাদেরকে মসজিদে নেওয়া মাকরূহ তাহরীমী। এরূপ ধারণা না হলোেও মাকরূহ তানযীহী।

২৭. মসজিদের মধ্যে যেনা, চুরি, হত্যা ইত্যাদির হদ্দ বা শাস্তি না দেয়া।

২৮. মসজিদে কিছু কুরআন, হাদীছ, ফেকাহ ইত্যাদি দ্বীনী ইল্‌ল্মের তা’লীম করা উত্তম।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ

১. বের হওয়ার সময় দরজার/সিড়ির কাছে এসে বাইরে অপেক্ষমান শয়তান

দলের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে-

اللهم إني أعوذ بك من إبليس وجنوده

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ইবলীছ ও তার বাহিনী থেকে পানাহ চাই।

২. বিসমিল্লাহ পড়বে।

৩. দুরূদ ও সালাম পড়বে।

৪. বের হওয়ার দোয়া পড়বে।

এই তিনটাকে একত্রে এভাবে পড়া যায়ঃ

بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله اللهم إني أسألك من فضلك

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গোনাহ মাফ কর এবং আমার জন্য তোমার অনুগ্রহ (বা রিযিকের) দরজাগুলো খুলে দাও।

৫. বাম পা আগে বের করবে।

৬. তারপর ডান পা বের করবে।

৭. ডান পায়ে আগে জুতা পরবে।

৮. তারপর বাম পায়ে জুতা পরবে।

সূত্র: আহকামে যিন্দেগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!