Skip to content

(16 টি আমল ও ৬ টি দোয়া সহ) ঈমান মজবুত করার উপায়, ঈমান বৃদ্ধি করার উপায়, ঈমান সম্পর্কিত কোন বিষয়ে মনে সন্দেহ জাগলে তখন করণীয় কি? ঈমান বাড়ে কমে কিভাবে?

(16 টি আমল ও ৬ টি দোয়া সহ) ঈমান মজবুত করার উপায়, ঈমান বৃদ্ধি করার উপায়, ঈমান সম্পর্কিত কোন বিষয়ে মনে সন্দেহ জাগলে তখন করণীয় কি? ঈমান বাড়ে কমে কিভাবে?

ঈমানের অর্থ হলোো- আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। ঈমান শুধু বিশ্বাসের নাম নয়; বরং বিশ্বাস ও কর্মের সমষ্টি। যেহেতু উল্লেখিত বিষয়সমূহের সমষ্টির নাম ঈমান, সে হিসেবে ঈমান বাড়বে ও কমবে এটিই স্বাভাবিক। কারণ অন্তরের বিশ্বাসেরও তারতম্য হয়ে থাকে। আজকের ই পোষ্টাটতে ঈমান মজবুত করার উপায় বা ঈমান বৃদ্ধি করার উপায় নিচে আমরা আলোচনা করব।

Table of contents

ঈমান সম্পর্কিত কোন বিষয়ে মনে সন্দেহ জাগলে তখন করণীয় কি?

যে সব বিষয়ে ঈমান রাখতে হয়, সে সব বিষয়ে যদি কখনও মনে সন্দেহ এবং ওয়াছওয়াছা দেখা দেয়, যেমন মনে সন্দেহ দেখা দিল যে (নাউযুবিল্লাহ) আসলেই খোদা বলে কেউ আছেন কি? বা থাকলে তাকে কে সৃষ্টি করল, কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া তিনি হলোেন কি করে?

কিংবা সন্দেহ দেখা দিল যে, জান্নাত জাহান্নাম আসলেই আছে কি? এরূপ আল্লাহ, রাসূল, কুরআন, পরকাল, তাকদীর ইত্যাদি যে কোন ঈমান সম্পর্কিত বিষয়ে সন্দেহ আসলে তখন তিনটা আমল করণীয়। যথাঃ

১. আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রজীম পড়ে নেয়া।

২. আমাতু বিল্লাহ (অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম) পড়ে নেয়া।

৩. উক্ত চিন্তা থেকে বিরত হয়ে অন্য কোন চিন্তা বা কাজে লিপ্ত হওয়া।

৪. উক্ত বিষয় নিয়ে কোন আলেম / কুরআন হাদীস এ বিজ্ঞ ব্যাক্তির নিকট থেকে সঠিক তথ্য গ্রহণ করা ও উক্ত বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া। উক্ত বিষয়ে লিখা বই পড়া। উক্ত বিষয়ে বিঙ্গ ইসলামিক স্কলারদের লেকচার শোনা।

এককথায়, সন্দেহ যুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট স্টাডি করার করার মাধ্যমে, উক্ত বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্তি হলোে, কখনই আর সদ্ধেহ মনে আসবে না। আপনার জ্ঞনের পরিধি যত বেশি হবে আপনি এই ধরণের সমস্যা থেকে তত বেশি মুক্ত থাকবেন। জ্ঞানের সল্পতা এই ধরণের সমস্যার মূল কারণ।

ঈমান বাড়ে কমে কিভাবে?

ঈমান বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ, ঈমানের মধ্যে নূর পয়দা হয় এবং ঈমান মজবৃত হয় নিম্নোক্ত তরীকায়ঃ

ঈমানের আলোচনা দ্বারা।

মানুষ যখন ইসলামি অনুষ্ঠান বা ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা শুনে, তখন তার ঈমান বাড়ে। এসবের আলোচনায় মনে হয়, সে যেন জান্নাত- জাহান্নাম স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে। পরে সে যখন মজলিস থেকে উঠে যায়, তখন গাফলতি চলে আসে এবং এ বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে থাকে।  

ঈমানদারদের সোহবত বা সাহচর্য দ্বারা, সত্যবাদীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা

যারা সত্য ও ন্যয়ের উপর অটল-অবিচল; দ্বীন ও ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত; কোরআন-সুন্নাহর প্রতিনিধিত্ব করে; সেসব লোকের সংস্পর্শে থাকা ও তাদের কথা মতো জীবন পরিচালনা করা। আর তাতে ঈমানের উপর অটল ও অবিচল থাকা সহজ হবে।

এমন লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন, যাঁদের সংস্পর্শে গেলে আমল বেড়ে যায়। যাঁরা অন্যকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। ’ (সুরা: তাওবা, আয়াত: ১১৯)

আমল দ্বারা।

(ঈমানের শাখাগুলোর উপর আমল করা দ্বারা) যে যত বেশি নেক আমল করবেন তার ইমান তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনের ইমানের সঙ্গে সঙ্গে আমলে সালেহ (অর্থাৎ নেক আমল) করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঈমানের শাখাগুলো জানতে এই পোষ্ট পড়ুন: https://inbangla.net/ঈমানের-শাখা-imaner-shakha/

যাবতীয় হারাম ও অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিবগুলো যথাযথ পালন করতে হবে।

সর্বোপরি যারা ঈমানের নেয়ামতে ধন্য হয়েছেন তারা সর্বদা ঈমানকে সৎকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে নবায়ন করতে হবে।

ঈমান বিধ্বংসী কোনো কাজের সাথে নিজেদের জড়িত করবেন না। পাশাপাশি আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতরাজি স্মরণ ও অধিক হারে তাঁকে স্মরণ করার মাধ্যমে ঈমানের ওপর অটল অবিচল থাকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

আল্লাহর গুণবাচক নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আল্লাহর গুণবাচক নাম, গুণাবলি, বড়ত্ব, মহত্ত্ব সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাবে ইমানও তত বাড়বে।

রাসূল সা: বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি মর্মার্থ অনুধাবনসহ সেগুলো গণনা করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। এসব নামের অর্থ অনুধাবন মানুষকে আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট করে, অন্তরে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। 

কুরআন-সুন্নাহসহ উপকারী ইলম অর্জন করা যা মানুষকে আল্লাহমুখী করতে সাহায্য করে।

বেশি করে সৎ কাজ সম্পাদন করা। সৎ আমল বেশি বেশি সম্পাদনের কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

এমন সৎ আমল মুখের মাধ্যমে হোক, কিংবা কাজের মাধ্যমে হোক। 

যে পরিপূর্ণ ইবাদত সম্পন্ন করবে, আর যে ত্রুটিপূর্ণভাবে ইবাদতসম্পন্ন করবে- উভয়ে সমান নয়। আলেমদের মতে, আমলের মাধ্যমেও ঈমান বাড়ে। যে বেশি আমল করে, তার ঈমান কম আমলকারীর চেয়ে বেশি।

মুখের আমলের অর্থাৎ জিকিরের কারণেও ঈমান বৃদ্ধি পায়।

কেননা দশবার আল্লাহর জিকিরকারী একশ’বার জিকিরকারীর সমান না। দ্বিতীয় ব্যক্তির আমল প্রথম ব্যক্তির আমলের চেয়ে অনেক বেশি।

অধিক হারে আল্লাহর জিকির করুন। কেননা দুর্বল ঈমানের সুস্থতার জন্য জিকির খুবই উপকারী। আল্লাহর জিকির অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করে। মুমিনের অন্তর জিকিরের মাধ্যমে প্রশান্ত হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমানদার এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়। ’ (সুরা: রাদ, আয়াত: ২৮)

প্রচুর হাদীস এর বই সমূহ পড়ুন। রাসূল সা:-এর যথাযথ আনুগত্য কারার দ্বারা ঈমান মজবুত হয়। আর রাসূর কর্ম, বাণী সুন্নাহ জানতে পাবের সহীহ হাদীস গ্রস্থ সমূহ থেকে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। তিনি যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিতেন, তাহলোে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত’ (সূরা হুজুরাত-৭)।

চিন্তা-গবেষণা ও অনুধাবনের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা।

এ মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

‘…আর যখন তাদের সামনে তাঁর (আল্লাহর) আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়…। ’ (সুরা: আনফাল, আয়াত: ২)

আরো বলা হয়েছে, ‘তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহ তালাবদ্ধ’ (সূরা মুহাম্মদ-২৪)। কুরআনের অন্যত্র এসেছে, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়’ (সূরা রাদ-২৮)।

নবীদের সিরাত, সাহাবায়ে কেরামের জীবনী পড়ুন।

কেননা মহান আল্লাহ মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের অন্তর প্রশান্ত করার জন্য পবিত্র কোরআনে নবীদের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আর তিনি সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে আমাদের ঈমানের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,

..মানুষ যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো…। ’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৩)

এ আয়াতের তাফসিরে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবারা যেভাবে ঈমান এনেছে, তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো। ’ (তাফসিরে তাবারি, সংশ্লিষ্ট আয়াত)

ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানুন। কেননা ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য যুগে যুগে মানুষকে মুগ্ধ করেছে এবং ঈমানের প্রতি ধাবিত করেছে।

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘…কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা হৃদয়গ্রাহী করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, পাপাচার ও নাফরমানির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এরাই সৎপথ অবলম্বনকারী। ’ (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ৭)

প্রকৃতিতে আল্লাহর নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন।

আল্লাহর সৃষ্টি জগত নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা। এছাড়া নিজ সম্পর্কে ও নিজের প্রতি আল্লাহর যে অগণিত নিয়ামতরাজি রয়েছে তা স্মরণ করা।

সব কিছুর চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে প্রাধান্য দিন।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা পাবে; ১. যে কাউকে ভালোবাসলে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসবে; ২. আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হবে এবং ৩. আল্লাহ তাকে কুফর থেকে পরিত্রাণ করার পর পুনরায় কুফরিতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়া তার কাছে পছন্দনীয় হবে। ’ (বুখারি, হাদিস: ৪৯৮৭)

আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার সামান্যতার কথা চিন্তা করুন। এর দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পার্থিব জীবনের উদাহরণ তেমন, যেমন আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করলাম, পরে তা মিলিত সংমিশ্রিত হয়ে তা থেকে জমিনের শ্যামল উদ্ভিদ বেরিয়ে এলো, যা মানুষ ও জীবজন্তুরা খেয়ে থাকে। এমনকি জমিন যখন সৌন্দর্য সুষমায় ভরে উঠল আর জমিনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল যে তারা এগুলোর ওপর ক্ষমতাবান। হঠাৎ করে তার ওপর আমার নির্দেশ এলো রাতে কিংবা দিনে, তখন সেগুলোকে কেটে স্তূপাকার করে দিল, যেন কালও এখানে কোনো আবাদ ছিল না। এমনিভাবে আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ খোলাখুলি বর্ণনা করে থাকি। ’ (সুরা: ইউনুস, আয়াত: ২৪)

আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ঠিক রাখুন। অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও শত্রুতা উভয়টিই আল্লাহর জন্য।

সুতরাং মুমিনদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব রাখুন। আর অবিশ্বাসীদের সঙ্গে সম্পর্কছেদ করুন। কেননা দ্বিনের শত্রুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল এবং ঈমানদাররা, যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে এবং তারা বিনম্র। ’ (সুরা: মায়িদা, আয়াত: ৫৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে, আল্লাহর জন্য প্রদান করে এবং আল্লাহর জন্য প্রদান থেকে বিরত থাকে, সে ঈমান পরিপূর্ণ করেছে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬৮১)

লজ্জা ঈমান মজবুত করা ও ঈমান বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কারণ এটি আল্লাহভীতির সূচক। লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।

আবু মাসউদ বদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষ আগের নবীদের বাণী থেকে এ কথা জেনেছে যে যখন তোমার লজ্জা নেই তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৬৯)

ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, এই হাদিসের ব্যাখ্যা দুইভাবে করা যায়—এক. কাজ ও তার নির্ধারিত ফলাফলবিষয়ক। অর্থাৎ যার লজ্জা নেই সে যা ইচ্ছা করতে পারে।

দুই. তা সীমা ও অনুমোদনসংক্রান্ত আদেশ। অর্থাৎ যে কাজ তুমি করতে ইচ্ছা পোষণ করছ, সেদিকে খেয়াল করো, যদি তা লজ্জাজনক না হয় তবে তা করো। তবে মতটি সঠিক এবং বেশির ভাগের মত।

তবে জ্ঞানার্জনে লজ্জা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞানান্বেষণে লজ্জা না করায় আনসারি নারীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আনসারি নারীরা কতই না উত্তম! লজ্জা কখনো তাদের ধর্মের বিষয়ে জ্ঞানান্বেষণে বিরত রাখতে পারে না। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২)

অনুরূপ সত্য কথা বলা বা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে লজ্জা নেই। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘…কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জাবোধ করেন না…। ’ (সুরা: আহজাব, আয়াত: ৫৩)

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ রাখা।

আল কুরআনে এসেছে: ‘যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো’ (সূরা ইমরান-১৯১)।

ঈমান মজবুত করার দোয়া / ঈমান বৃদ্ধি করার দোয়া

১. اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ: ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম। সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়া লাদ্দাল্লিন।’

অর্থ: ‘আমাদের সহজ সরল পথের হেদায়েত দিন। যে পথে চলা লোকদের ওপর আপনি নেয়ামত দান করেছেন। অভিশপ্ত ও গোমরাহির পথ থেকে বিরত রাখেন।’

২. رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন।’

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের ধৈর্যদান করুন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।’

৩. رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা লা তুযেগ কুলুবানা বাদা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনে ধাবিত করো না; এবং তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর; নিশ্চয় তুমিই সবকিছুর দাতা।’

৪. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলামুওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার জানামতে আপনার প্রতি শিরক হয় এমন ভয়াবহ অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার আশ্রয় চাই। আর আমার অজানায় ঘটে যাওয়া শিরক থেকেও ক্ষমা প্রার্থনা করি।

৫. اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা মুছাররিফাল কুলুবি ছাররিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।

অর্থ: হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে আপনার আনুগত্যের দিকে পরিবর্তন করে দিন।’ (মুসলিম, মিশকাত)

৫. يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّت قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ

উচ্চারণ: ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।

অর্থ: ‘হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর দৃঢ় রাখ। (তিরমিজি, মিশকাত)

৬. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিতানি মা জাহারা মিনহা ওয়া মা বাত্বান।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! যে ফেতনাগুলো দেখা যায় আর যেগুলো দেখা যায় না, সব ধরনের ফেতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রশান্তি ও সৌভাগ্যের মৃত্যুদানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। সাদেক্বিন-সত্যবাদীদের সঙ্গে চলার এবং সুসম্পর্ক রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঈমান কমে কিভাবে?

পক্ষান্তরে ঈমান দূর্বল হয়ে যায় এবং ঈমানের নূর কমে যায়, এমনকি কখনও কখনও ঈমান নষ্ট হয়ে যায় নিম্নোক্ত কারণেঃ

১. কুকর্ম দ্বারা।

২. শির্ক দ্বারা।

৩. বিদআত দ্বারা।

৪. রছম ও কুসংস্কার পালন দ্বারা।

৫. গোনাহ দ্বারা। গোনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া।

কেননা গুনাহের কাজ করলে অন্তরে এবং ঈমানের উপর বিরাট প্রভাব পড়ে। এই জন্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ অর্থ্যাৎ, “ব্যভিচারী ঈমান থাকা অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে না।”

৬. মূর্খতা ও জ্ঞানের সল্পতা।

৭. ইসলাম, কুরআন, হাদীস সম্পর্কে যথেষ্ট লেখাপড়া না থাকা।

৮. আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা ঈমান কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কেননা এ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যতো কম থাকবে, ঈমানও ততো কমতে থাকবে।  

৯. সৃষ্টি জগৎ, শরিয়ত ও আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে গবেষণা করা থেকে বিরত থাকা। কেননা আল্লাহর সৃষ্টিতে চিন্তা-ভাবনা না করা ঈমানের ঘাটতি হওয়ার অন্যতম কারণ।  

১০. সৎ আমল না করা ঈমান হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু যদি বিনা কারণে কোনো ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দেয়, তাহলোে ঈমান কমার সঙ্গে সঙ্গে সে শাস্তির সম্মুখিন হবে। অবশ্য গ্রহণযোগ্য কারণে ওয়াজিব ছেড়ে দিলে অথবা ওয়াজিব নয় এমন কাজ ছেড়ে দিলে ঈমানের ঘাটতি হবে- কিন্তু শাস্তির সম্মুখিন হবে না।  

(16 টি আমল ও ৬ টি দোয়া সহ)  ঈমান মজবুত করার উপায়, ঈমান বৃদ্ধি করার উপায়, ঈমান সম্পর্কিত কোন বিষয়ে মনে সন্দেহ জাগলে তখন করণীয় কি? ঈমান বাড়ে কমে কিভাবে?
পোষ্টটি লিখতে নিম্নক্তো বই/লেখকের লিখনী থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
আহকামে জিন্দেগী (মাকতাবাতুল আবরার প্রকাশনী)
মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন
শায়খুল হাদীছ, জামেয়া ইসলামিয়া আরার্বিয়া, তাঁতী বাজার, ঢাকা-১১০০
মুহাদ্দিছ, জামিয়া ইসলমিয়া দারুল উূলুম মাদানিয়া, ৩১২, দক্ষীণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!