Skip to content

সাহাবী বা সাহাবা কারা? সাহাবীদের সম্পর্কে মুসলিরা বিশ্বাস করে?

সাহাবী বা সাহাবা কারা? সাহাবীদের সম্পর্কে মুসলিরা বিশ্বাস করে?

সাহাবী বা সাহাবা কারা?

সাহাবা সেই ব্যক্তি, যে রসুলাল্লাহ (সা)-এর প্রতি ইমান সহকারে তাঁর সাহচর্য বা সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং সেই ইমানের উপরই মৃত্যুবরণ করেছেন।

সাহাবী তিনিই যিনি দীর্ঘদিন নবিজি (সা)-এর আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

সাহাবীদের সম্পর্কে মুসলিরা বিশ্বাস করে?

  • সকল সাহাবী আদিল অর্থাৎ, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী, মুত্তাকী, পরহেযগার, ন্যায়পরায়ণ এবং ইসলাম ও উম্মতের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দানকারী। প্রত্যেক সাহাবীর মধ্যে হেদায়েতের নূর এবং আলো রয়েছে; কারও মধ্যে অন্ধকার নেই।
  • সকল সাহাবী সমালোচনার উর্ধ্বে। তাঁদের সমালোচনা করা, দোষত্রুটি অন্বেষণ করা সম্পূর্ণ অমার্জনীয় অপরাধ। সাহাবীদের সমালোচনাকারীগণ ফাসেক ফাজের ও গুমরাহ্।
  • সাহাবীদের প্রতি মহব্বত ও ভক্তি শ্রদ্ধা আহলোে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের অন্যতম শিয়ার বা প্রতীকী বৈশিষ্ট্য।
  • প্রত্যেক সাহাবী সত্যের মাপকাঠি। সাহাবায়ে কেরামের ঈমান ঈমানের কষ্টিপাথর, যার নিরিখে অবশিষ্ট সকলের ঈমান পরীক্ষা করা হবে। আমল এবং দ্বীনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁরা মাপকাঠি। এক কথায় সাহাবায়ে কেরাম হকের মাপকাঠি, তাঁদের নিরিখে নির্ণিত হবে পরবর্তীদের হক বা বাতিল হওয়া।
  • যে সব ক্ষেত্রে সাহাবীদের মধ্যে দ্বিমত বা বাহ্যিক বিরোধ দেখা দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেও প্রত্যেক সাহাবী হক ছিলেন। তাঁদের পারষ্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং সংঘর্ষের ক্ষেত্রে মানুষ হিসেবে তাঁদের কোন পক্ষের এজতেহাদী ভুল-চুক থাকতে পারে, তবে প্রত্যেকের নিয়ত সহীহ ছিল, ব্যক্তি স্বার্থ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশে তাঁরা সেটা করেননি বরং দ্বীনের খাতিরে এবং এখলাছের সাথেই করেছেন, এই আকীদা-বিশ্বাস রাখতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রেও যে কোন একজন বা এক পক্ষের অনুসরণ করলে হেদায়াত, মুক্তি ও নাজাত পাওয়া যাবে। কিন্তু একজনের অনুসরণ করে অন্যজনের দোষ চর্চা করা যাবেনা। দোষ চর্চা করা হারাম হবে।
  • সাহাবীদের মর্যাদা সমস্ত ওলী আউলিয়াদের ঊর্ধ্বে। যিনি উম্মতের সবচেয়ে বড় ওলী (যিনি সাহাবী নন) তার মর্যাদাও একজন নিম্ন স্তরের সাহাবীর সমান হতে পারেনা বরং সাহাবী আর সাহাবী নন-এমন দুই স্তরের মধ্যে মর্যাদার তুলনাই অবান্তর।
  • সমস্ত সাহাবীর মধ্যে চারজন সর্বপ্রধান। তম্মধ্যে সর্বপ্রধান (১) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এবং তিনি প্রথম খলীফা। তারপর (২) হযরত ওমর (রাঃ), তিনি দ্বিতীয় খলীফা। তারপর (৩) হযরত ওসমান গনী (রাঃ), তিনি তৃতীয় খলীফা। তারপর (৪) হযরত আলী (রাঃ), তিনি চতুর্থ খলীফা ৷ খলীফা হওয়ার ক্ষেত্রে এই তারতীব অর্থাৎ, এই পর্যায়ক্রম হক ও যথার্থ।
  • সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহ তা’আলা চির সন্তুষ্টির খোশ-খবরী দান করেছেন। বিশেষভাবে একসাথে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা দশজন সাহাবীর নাম উল্লেখ পূর্বক তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ; দেয়া হয়েছে। উক্ত দশজনকে “আশারায়ে মুবাশ্শারাহ্” (সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন) বলা হয়।

জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ১০ জন সাহাবী:

  • (১) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ),
  • (২) হযরত ওমর (রাঃ),
  • (৩) হযরত ওসমান গনী (রাঃ),
  • (৪) হযরত আলী (রাঃ),
  • (৫) হযরত তালহা (রাঃ),
  • (৬) হযরত যোবায়ের (রাঃ),
  • (৭) হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ),
  • (৮) হযরত সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ),
  • (৯) হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রাঃ) এবং
  • (১০) হযরত আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)।

এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও কতিপয় সাহাবী সম্পর্কে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওলাদগণের মধ্যে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এবং বিবিদের মধ্যে হযরত খাদীজা (রাঃ) ও হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর মর্তবা সবচেয়ে বেশী।

পোষ্টটি লিখতে নিম্নক্তো বই/লেখকের লিখনী থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
আহকামে জিন্দেগী (মাকতাবাতুল আবরার প্রকাশনী)
মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন
শায়খুল হাদীছ, জামেয়া ইসলামিয়া আরার্বিয়া, তাঁতী বাজার, ঢাকা-১১০০
মুহাদ্দিছ, জামিয়া ইসলমিয়া দারুল উূলুম মাদানিয়া, ৩১২, দক্ষীণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!